Wednesday, April 21, 2021

জনগণের সরকার বনাম ব্যবসায়ীদের সরকার

 জনগনের সরকার বনাম ব্যবসায়ীদের সরকার()

--------------জসীম উদ্দীন

১২/০৬/২০

সামরিক স্বৈরাচারের শাসনামল থেকে আমাদের রাজনীতি যে রাজনীতিবিদদের হাত থেকে ছিনতাই হয়ে গেছে "I will make politics difficult for politician". সামরিক স্বৈরাচারারা সেই উক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তারা রাজনীতিকে রাজনীতিবিদের হাতে রাখতে চাননি। আর এই উক্তির খেসারত জাতিকে আজো পর্যন্ত দিয়ে যেতে হচ্ছে। আরো কত কাল তা দিয়ে য়েতে হবে একমাত্র নিয়তিই জানেন।১৫ই আগষ্ট জাতির পিতার হত্যার পর সামরিক শাসক নিজেরা ক্ষমতা দখল করে তা পাকাপোক্ত করতে স্বাধীনতা বিরোধিদের সাথে নিয়ে বেশ কিছু অরাজনৈতিক ব্যাক্তি এবং ব্যবসায়ীদের   অবৈধ ক্ষমতার বৃত্তে নিয়ে আসেন। সামরিক স্বৈরাচার বিদায় নিলেও তার ধারাবাহিকতা পরবর্তীতে সকল সরকার অনুশরন করে আসছে। আওয়ামীলীগকেও রাজনীতিতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পরবর্তীতে সেই নীতি অনুশরন করতে বাধ্য হয়েছিল। যা এখনো বলবৎ আছে। 

যার ফল স্বরূপ এই গন মানুষের রাজনৈতিক দল এখন গর্মেন্টস মালিক, হাসপাতালের মালিক, পরিবহন মালিক, আমদানি রফতানীকরক ব্যবসায়ীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এই ব্যবসায়ীরা এখন একাধারে ব্যাবসায়ী এবং রাজনীতিবিদ। তারা দেশ বুঝেনা তারা ব্যবসা বুঝে, তারা মানুষ বুঝেনা তার মুনাফা বুঝে। পূর্বে রাজনীতিবিদরা রাজনীতিই করত। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করত, অন্য পেশার লোক রাজনীতি করতে চাইলে তাকে আগে গন মানুষের নাড়ীর স্পন্দন বুঝে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে আসতে হত, আর সাধারন কর্মীরা তৃনমূল পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে রাজনীতি করে নেতা হয়ে জাতীয় পর্যায়ে আসত। এই পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদদের ছিল জনগনের নিকট বিরাট দায়বদ্ধতা,অনেক দরদ। এই জননেতারাও আজ এই উড়ে এসে জুড়ে বসাদের ভীড়ে কোণঠাসা। তারাও দেখছে এত ত্যাগ এত সততা এসব কিছুরই তো দাম নেই। টাকা থাকলে একদিনেই নেতা হাওয়া যায়, এমপি হাওয়া যায়। তাই তাদের সততাইও শৈথিল্য এসে গেছে। তার কুফল আজকে আমরা দেখছি। 

সরকারকে আজ চলতে হচ্ছে  এই নিষ্টাবান রাজনীতিকদের বাদ দিয়ে  এই মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের কথায়, জনগনের কথা চিন্তা করে সরকার লকডাউন দিলে আবার ব্যবসায়ীদের চাপে তা তুলে নিতে হচ্ছে।  করোনা সক্রমন থেকে শ্রমিকদের বাঁচাতে সব মিল কারখানা বন্ধ করে দিলে, গার্মেন্টস মালিকরা সরকারের তোয়াক্কা না করে শ্রমিকদের কাজ করাতে আবার গ্রাম থেকে ফিরয়ে আনছে। ঈদে সরকার দোকানপাট বন্ধ করতে চাইলে, ব্যবসায়ীদের চাপে দোকান পাঠ খুলে দিতে হচ্ছে, এখন কথা হল জনগনের জীবন আগে না ব্যবসা আগে? জনগনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে কিসের ব্যবসা? কিসের উন্নতি? এই গেল ব্যবসা খাত।     

এখন আসি স্বাস্থ্য খাত, এই স্বাস্থ্যখাতে যে দূর্নীতি তা তো আগে থকে চলে আসছে তা কারো অজানা নয়, ইদানিং মাস্ক, পিপিই নিয়ে যে দূর্নীতি হলো তার তড়িৎ কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন বোধগম্য নয়। এখন প্রাইভেট হাসপাতাল গুলা সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তাদের মত করে চলছে, মানুষ সেবা না পেয়ে এ হাসপাতাল থেকে ওহাসপাতালে ঘুরে ঘুরে  এম্বুলেন্সের ভিতর পথের মধ্যে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে।  জ্বর হলে, স্বাস কষ্ট হলে কোন হাসপাতাল তাকে ভর্তি করছে না। প্রাইভেট হাসপাতালের আর একটি ঔদ্যত্বপূর্ণ আচরনের কথা না বললে নয়, আনোয়ার খান হাসপাতালের সাথে সরকারের যে চুক্তি হয় তাতে তারা জনগনকে বিনামূল্যে সেবা দেয়ার কথা। কিন্তু তা না করে তারা গোপনে উচ্ছ হারে জনগন থেকে টাকা আদায় করছে। এটা প্রাকাশিত হয়ে গেলে, তারা সরকারের এই চুক্তি থেকে বের হয়ে আসে। সরকার তার বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। যেহেতু এই ব্যবসায়ী রাজনীতিক এক জন এম পি। 

এবার আসি পরিবহন খাতে, সব ব্যবসায়ীর আবদার যখন সরকার রক্ষা করল এখন পরিবহন ব্যবসায়ীরা কি দোষ করল? তাদের দিকেও তো দেখতে হবে, তারাও ত রাজনীতিবিদ, এবার পরিবহন সেক্টরও খুলে দিতে হবে। সরকার তাদের কাছেও নতি স্বীকার করলো, তা আবার ৬০% ভাড়া বৃদ্ধি করে।

যদিও সবার জানা এবার করোনা আরো স্পষ্ট করে দিল, গার্মেন্টস মালিকরা  শ্রমিক বান্ধব নয়, হাসপাতালগুলা রোগী বান্ধন নয়, পরিবহন সেক্টর যাত্রী বান্ধব নয়। ব্যবসায়ীরা ভোক্তা বান্ধব নয়। দেখা গেল কোন সেকৃটরই জন বান্ধব নয়। সবাই স্বার্থ বান্ধব, দূর্নীতি বন্ধব। তাদের লক্ষ্য  যে কোন ভাবে টাকা কামানো আর মুনাফা। এই পাহাড়সম মুনাফার জন্য এই ব্যবসায়ী ররাজনীতিবিদররা  আজ সরকারকে জিম্মি করে রেখেছে। সেই জন্য আজ সরকারকে নতি স্বীকার করে লকডাউন তুলে নিতে হচ্ছে। গার্মেন্টস খুলে দিতে হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতাল গুলোও সরকারের নির্দেশ অমান্য করে স্বাস্থ্য সেবা বন্ধ করে দিলেও সরকার শক্ত অবস্থানে যেতে পারছেনা। সরকারের দূর্বল অবস্থানের কারনে  শুরু হয়েছে এই করোনা কালে সাধারন স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে জনগনের ভোগান্তি। এখন করোনাকালে করোনা সংক্রমিত কোন রোগীকে ত বেসরকারী কোন হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেইনা। করোনা না হলেও এ হাসপাতাল গুলা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করছেনা । আর ভর্তি হতে না পেরে পথে ঘাটে মৃত্যু ঘটছে সাধারন মনুষের। এভাবেই কি চলবে বাংলাদশ? এখন সময় এসেছে সব দল ব্যবসায়ীদের রাজনীতি থেকে তাড়ান, আর  রাজনীতিবিদরা ব্যবসা ছাড়ুন। তাহলে সরকার জনবান্ধব হয়ে দেশ চালাতে পারবে। এই মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতা এবং সিদ্ধান্তহীনতার মূল কারন এইটাই। 

           মোঃ জসীম উদ্দীন, এম এ(চবি,রাজনীতি বিজ্ঞান,)

No comments:

Post a Comment

একটি ছড়া

 পাগলা কাকা ( কবিতার পটভূমিঃ- এই ছড়া কবিতাটি মানসিক প্রতিবন্ধী  আমার এক দূর সম্পর্কীয় মরহুম কাকাকে নিয়ে, যিনি বেশ সম্পদশালী মানুষের সন্তান ছ...