Tuesday, May 25, 2021

একটি ছড়া

 পাগলা কাকা

( কবিতার পটভূমিঃ- এই ছড়া কবিতাটি মানসিক প্রতিবন্ধী  আমার এক দূর সম্পর্কীয় মরহুম কাকাকে নিয়ে, যিনি বেশ সম্পদশালী মানুষের সন্তান ছিলেন, কিন্তু সমাজের স্বার্থপর মানুষেরা তার দুর্বলতার সু্যোগ নিয়ে তাকে করেছে সর্বহারা, আমি তার জীবনের কিছু বিচিত্র চিত্র নিয়ে অনেক দিন আগে এই ছড়া কবিতাটি রচনা করি। আজ প্রকাশ করলাম।) 

-------------জসীম উদ্দীন

এক ছিল মোর পাগলা কাকা,

সে ছিল খুবই বোকা 

সবাই তাকে দিত ধোঁকা

বুড়ো থেকে ছোট্ট খোকা।


পাগলা কাকা এতই বোকা

আজীবনে হয়নি শেখা

চার শিখিতে একটা টাকা।


পাগলা কাকা এতই বোকা

দুষ্ট লোকের খেয়ে ধোঁকা

সব হারাল জায়গা জমিন

তাই তো সে আজ নিঃস্ব একা। 


শুনলে সেসব ইতিকথা

সবার মনে জাগবে ব্যথা

তবুও সবার হাসি পাবে

যদিও তা ব্যথার কথা।


কলা নিয়ে জমিন বেচা

করিবে কোন অবুঝ বাচা

তা করেছে আমার চাচা

বুদ্ধিতে সে এতই কাঁচা। 


বুদ্ধিতে সে এতই বোকা

যদি বলি পাগলা কাকা

গুরুস্থানে পারবে তুমি

রাড কাটাতে একা একা? 

অমনিতে সে গর্বভরে

রাতটা দিত সাবাড় করে

গুরুস্থানে চুপটি মেরে।


বোকামীতে এতই পাকা

যদি বলি পাগলা কাকা

নাই তোমারি বুকের পাটা

মাঘের শীতে গভীর রাতে

একা একা সাঁতার কাটা।


জামা চাদর অমনি খুলে

লাফ মারিত শীতের জলে

সাঁতার কেটে ডাঙ্গায় এলে

শীতের জলে কাঁপছে দুলে।


বাজারে সে বস্তা টানে

খুশী হয়ে আপন মনে

কম ওজনের বস্তা হলে

রাগত স্বরে উঠে বলে

কম ওজনের বস্তা টানা

বীর পুরুষের কেমনে মানে? 


পাগলা কাকা বস্তা টেনে

কেবল শুধু পয়সা চেনে

টাকা দিলে ছুঁড়ে ফেলে

চোখ দুটিতে রক্ত তোলে।


টাকার বদল একশ পায়

যদি সে তার হাতে পাই

মনে করে তার মত লক্ষপতি

এই দুনিয়ায় কেহ নাই।


পাগলা কাকা খেত ভাত

শেষ করিতে গভীর রাত

চার থালা ভাত পেটে ফেলে

বলত কাকা কোথায় গেলে!

ভাত দিয়ে যাও জলদী করে

নইলে আমি যাচ্ছি চলে।


পাগলা কাকার কাল বউ

নামটি তাহার জানতনা কেউ

"অাঞ্জু" নামে দিলে ডাক

উঠত কাকার ভিষম রাগ।


পাগলা কাকা ভিষম রেগে

পা' টা  দিল বউএর ভেঙ্গে।

সে রাতে বউ পালিয়ে গেল

কাকার মাথায় হাত পরিল। 


এমনি করে জীবনখানা 

কাটিয়ে দিল পাগলা কাকা,

অবশেষে শেষ বয়সে 

মারা গেল সঙ্গিবিহীন একা একা। 

--------------------------

Monday, May 17, 2021

বিদ্যুৎতের অদ্ভুত কান্ড

 বিদ্যুতের অদ্ভুত কান্ড

------------------জসীম উদ্দীন

(সাম্প্রতিক রোজার সময় বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের প্রতিবাদে আমার এই প্যরোডী কবিতাটি নিবেদন করলাম। আশা করি তাদের কাছে যাবে, আমরাও ভোগান্তি থেকে বাঁচব)

তাং--০৮/০৪/২১

------------------

আমাদের দেশে বিদ্যুত মশায় সবসময় অদ্ভুত সব কান্ড করে, 

সে তার ইচ্ছেমত চলে, 

কখন সে আসবে আবার কখন সে যাবে, তা তার একান্ত নিজের ইচ্ছা, 

মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা যায় ভূলে।


রাতে যখন টেবিলে বসে বউ বাচ্ছা নিয়ে খেতে বসবেন 

সে হঠাৎ চম্পট দেবে,

জানিনা সে কোথায় যায়, কি করে,

বিদ্যুতের মাদকাশক্তি আছে কিনা জানতে ইচ্ছে করে ! 


প্রছন্ড গরম তুমি রাতে ফ্যান চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছ 

দেখবে বিদ্যুৎ মশায় তার দায়িত্ব ছেড়ে চলে গেছে, 

জানিনা তার গাঁজা নাকি ভাং, কিসের অভ্যাস আছে।


আপনি গভীর ঘুমে অচেতন, 

হঠাৎ ঘর্মাক্ত দেহে ঘুম থেতে জেগে এপাশ ওপাশ করছেন বিছানায়,

চোখ খুলে দেখলেন বিদ্যুৎ মশায় গেছে পালায়। 

ইচ্ছে হলে হঠাৎ আবার আসে, আসার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে যখন চোখ দুটি মুদে আসে,

দেখবেন বিদ্যুতহীনতার গ্যাড়াকলে পড়ে আবার গেছেন ফেঁসে,

বিদ্যুৎ মশায় আবার পালিয়ে গিয়ে, অন্ধকারে যায় মিশে।


এতো গেল রাতের খবর, 

এবার আসি দিনে, 

সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন নামাজ পড়তে যাবেন 

তখন দেখবেন ঘরে লাইট জ্বলছেনা, ওজু করতে যাবেন টাঙ্কীতে পানি শেষ,

দূপুরে গোসল করতে যাবেন?  আলো নেই বাথরূমে , 

এইভাবে দাশিত্বহীন বিদ্যুৎ বিভাগ চলে ঘুমে ঘুমে। 


এবার আসুন, রোজা রমজানের দিনে, 

সারা দিন রোজা রেখে আপনি যখন ইফতারের টেবিলে 

বিদ্যুৎ মশাাইর তখন একটুও ভাল লাগেনা, 

তাই চলে যায়, কাউকে কিছু নাবলে। 

কে জানে সে ফেনসিডিল না ইয়াবা খায়

যখন রাতে সেহরী খাবেন, তখনও দেখবেন তার মাদকাসক্তি বেড়ে যায়,

বিদ্যুৎ মশায় তোমার যা ইচ্ছে কর, তবুও তোমাকে বলি ধন্য ধন্য

তুমি অনন্য তুমি অনন্য।  


তুমি কাজের বেলায় টুঁ টুঁ, ,

টাকার বেলায় বত্রিশ আনা দায়িত্ববান, 

বিদ্যুৎ ব্যবহার নাকরলেও, লক্ষ টাকার ভূতুরে বিল আমাদের জন্য পাঠান।

না দিলে আরো কড়া, 

থানা পুলিশ আর মামলা করে পড়াবে হাত কড়া। 

যত লাগামছাড়া, দায়বদ্ধতাহীনভাবে চলুক বিদ্যুৎ বিভাগ, যাবেনা কিছু বলা,

বিদ্যুৎ বিভাগ যেন গ্রাহকের মুনিব, আর গ্রাহকরা তার কামলা। 

এইভাবে চলে আমাদের বিঢ়ুৎ বিভাগ, জবাবদিহিহীন তার কারবার, 

মানুষের ভূগান্তি যতই বাড়ুক, সময় নেই বড়কর্তাদের এসব দেখবার।

------------------------------------------------------

স্বপ্নালু বৃষ্টি ও আমি

 স্বপ্নালু বৃষ্টি ও আমি()

-------------জসীম উদ্দীন

১০/০৭/২০

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম আদূরে বৃষ্টি খেলা করছে পাশের সবুজ বন তল জুড়ে। টুপ টাপ গানের শব্দে সবুজ পাতা বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে প্রকৃতিকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলছে। আর আকাশের রাজ্যে মেঘ কন্যা ভেসে বেড়াচ্ছে স্বপ্নজালে বন্দী হয়ে। আমার মন চাইছিল তাদের সাথে দেহ মন দুটোকে ভিজয়ে নিতে। তাই আবেগে হারিয়ে গিয়ে  মনটাকে নিয়ে উড়াল দিলাম বৃষ্টি কন্যার কাছে। 

জিজ্ঞেস করলাম, তুমি স্বপ্নময়তার মাতাল হাওয়ার ভেসে বেড়াচ্ছ, আমাকে সাথে নেবে?

সে বলল, "তুমি মর্ত্যের মানব তুমি মর্তেই থাক, তোমাদের জন্য মর্তের সুন্দরী বৃষ্টি ত আছে"। 

এবার আমি বিজলী পাখায় চড়ে আবার চলে এলাম আমার পাশে সবুজ বনতলের সেই বৃষ্টি বালিকার কাছে, ভেজা বনের সবুজতায়। বৃষ্টি আমাকে আদরে সোহাগে ভিজিয়ে দিল তার ভালবাসার সঞ্জিবনী সূধায়। আমি বৃষ্টির সঞ্জিবনী সূধায় সিক্ত হয়ে আপ্লুত হয়ে গেলাম। বৃষ্টিকে মনে হল আমার মনের কোণে বাস করা সেই প্রেয়সী।

যখন বৃষ্টি থেমে গিয়ে তার ছন্দিত নুপূর বন্ধ করে দিল আমি স্বপ্নালোক ছেড়ে পৃথিবীর রূঢ় বাস্তবতায় ফিরে আসি। আতঙ্কে ভাবতে থাকি করোনা এসে চড়াও হচ্ছে নাতো!!

---------------------

Monday, May 3, 2021

জীবনের কিছু প্রশ্ন

 জীবনের কিছু প্রশ্ন

০৫/০৩/১৮

-------জসীম উদ্দীন

আমাদের জন্ম থেকে শুরু যে অস্তিত্বের তার কোন শেষ নেই। এই অস্তিত্বকে কিছু দিনের জন্য পৃথিবী নামক আবাসে সচল রাখা হয়। তখন সে নড়ে চড়ে, চিন্তা করে, হর্ষ বেদনা, মায়া মমতা অনুভব করে। এ অস্তিত্ব জুটি বেঁধে বংশ বিস্তার করে। একটি নির্দিষ্ট সময় পার হলে সে আবার  দেহ নিয়ে মাটিতে মিশে যায়। আর তার প্রাণ পাখি আত্মা হয়ে উড়ে যায় পরমাত্মার কাছে, যে পরমাত্বা সব আত্মার সৃষ্টিকর্তা।

আমারা আমাদের দেহটাকে কত যত্ন করি, দামী প্রসাধনী দিয়ে তার পরিচর্যা করি, কত দামী পোষাক দিয়ে ঢেকে রাখি । আমরা কি ভেবে দেখেছি এ দেহের এত রূপ, এত অহংকার, এত বিলাসিতা, এত দাপট, সব কিছু পঞ্চাশ ষাট শত্তুর অথবা বড় জোড় একশত বৎসর পর্যন্ত। তারপর সব অহংকার মাঠির দূলায় মিশে বিলীন হয়ে যায় । হাজার হাজার বছর মাটির তলায় নির্জীব নিস্তেজ বিলীন অস্তিত্ব হয়ে পড়ে থাকে।

এ লক্ষ কৌটি বছরের পথ চলায় এই অতি ক্ষুদ্র সময়ের জন্য মানুষ কিভাবে এই পৃথিবীতে আসল ? কেন আসল?   এর যেমন ধর্মীয় ব্যখ্যা আছে, তেমনি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। তবে ধর্ম ও বিজ্ঞান নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা আছে কিনা আমার জানা নেই। আমরা কেউ ধর্মকে বিশ্বাস করি কেউ বিজ্ঞানকে। আমরা কেউ কেউ ধর্ম ও বিজ্ঞান এ দুয়ের হাত ধরা ধরি করে চলি।  ধর্মে যেমন বিশ্বাস আর উচ্ছাসের প্রাধান্য বেশী তেমনি বিজ্ঞানের কার্যকরন ও যুক্তিবাদীতার প্রাধান্য ও নির্ভরশীলতা বেশী। কিন্তু এসব ব্যাখ্যা সকল অস্তির মনের জানার আগ্রহে সবটুকু সস্তিরতা দিতে পারছে  এবং ভবিষ্যতে পারবে তা হলফ করে বলা মুশকিল। 

বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কালের পরিক্রমায় প্রায়সময় পরিবর্তিত হয়। আবার ধর্মের ব্যাখ্যা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারনে মেনে নিতে হয়। এ দুয়ের মেল বন্ধন ঘটিয়ে এসকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেশীর ভাগ  মানুষ। --------

যাই হউক আমরা এ পৃথিবী নামক গ্রহেই সৃষ্টি। এ বিশাল বিশ্ব ধরায় আমরা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, আর এ বিশ্বে আমাদের ক্ষনিকের অবস্থানের মূল উদ্দশ্য আমরা বুদ্ধি বৃত্তিক মানুষ  আজীবন খুঁজে বেড়াচ্ছি। এরূপ প্রশ্ন হাজার বছর ধরে কৌতুহলী মানুষ খুঁজে বেড়াবে। কিন্তু সর্বজন গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যা কোনদিন সম্ভব হবে কিনা আগামীই বলতে পারে। তবে আজকের সজীব প্রাণপূর্ণ চঞ্চল বুদ্ধি বৃত্তিক মানুষ কি করে মাটির নীচে অনাদীকাল পর্যন্ত নির্জীব নিস্পাণ জড় হয়ে পড়ে থাকবে?  একথা ভেবে সব সময় একটা দুঃখবোধ  নিজের মধ্যে তাড়া করে ফিরে।

-----------------------------------------------

Wednesday, April 28, 2021

দেহ ও মন বিষয়ক প্রবন্ধ

 দেহ ও মন(প্রবন্ধ)()

--------জসীম উদ্দীন

তাং-২৫/১০/১৮

মানুষের দেহকে এক জড় পিন্ড বলা যেত যদি তার কোন অনুভূতি না থাকত, কিন্তু অনুভূতি আছে বলে তাকে জড় পদার্থের অভিধায় অভিহিত করা যায়না, কারন সে সুখ দুখ বুঝে, তবে এপর্যন্তই। দেহের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই যে নিজের ইচ্ছায় চলবে, কিন্তু মানুষের দেহের ভিতর বাস করে যে মন সেই তাকে চালনা করে, তার  অসম্ভব ক্ষমতা, এমন বিশাল দেহী বুদ্ধিমান মানুষ এ অসম্ভব কর্মক্ষমতার অধিকারী নিজের  মনের নির্দেশের বাইরে এক চুলও নড় চড়া করতে পারে না। তার নির্দেশেই চলে দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। 

মন নামের এই অদৃশ্য অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী বায়বীয় অস্তিত্বকে মনে হবে আপনার নিয়ন্ত্রনাধীন কিন্তু আপনি নিজের মনকে নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন তাকে কতটুকু আপনার ইচ্ছার কাছে বশীভূত করে রাখতে পারছেন। আমি আমার নিজের উপলব্দী থেকে বলতে পারি মন নামের অদৃশ্য উপলব্দিটাকে  সব সময় আমার নিয়ন্ত্রনে রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করি কিন্তু পারিনা। কোন কাজ করতে গেলে মনকে স্তির রেখে করা আমার জন্য দুঃসাধ্য ব্যপার। আমি যখন একাগ্র মনে কাজ করতে যায় জানিনা কোন অজান্তে মনটা আমাকে ফাঁকি দিয়ে অন্যদিকে অন্যদিকে মনোযোগি করে তোলে আমাকে। সেটা সবকিছুতেই ঘটে, এমনকি জাগতিক কাজ ছাড়া পভূর নিকট পরজাগতিক প্রার্থনা করতে গেলেও এমনটা ঘটে। বরং আআরো বেশী করে ঘটে। আমি যখন নামাজের নিয়ত করে একাগ্র চিত্তে নামাজ পড়ি তখন মন কোন অলক্ষে অন্য আর এক চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আবার সম্বিত ফিরে এলে দেখি মন নামাজে একাগ্রচিত্ত না হয়ে অপ্রয়োজনীয় চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছে। এটা ধর্মীয় দৃষ্টি কোণ থেকে বললে বলতে হবে শয়তানের কাজ। শয়তান আল্লার কাছ থেকে দূরে রাখবার জন্য বান্দার মনের উপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে। আমরা আবার বলতে পারি শয়তানের কাজ হল মন্দ কাজে প্ররোচিত করা, আর ভাল কাজ থেকে মানুষকে দূরে রাখা। কিন্তু দেখা যায় অনেক সময় অনেক ভাল চিন্তাও এ অবাধ্য মন থেকে উৎসারিত হয়। তখন তো তাকে আর শয়তানের কাজ বলে অাখ্যায়িত করতে পারিনা। তাই বলি 'দেহ' 'মন' যতদিন প্রাণ আছে ততদিন জড়াজড়ি করে থাকবে। তবে একথা সত্য যে এই অস্তিত্বহীন বায়বীয় মনকে কোন দিন দেহ নামক অস্তিত্ব নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবেনা। এই লাঘামহীন পাগলা ঘোড়া নিজের ইচ্ছা মত সোয়ারীকে দাবড়ীয়ে বেড়াবে।

----------------------------------

Tuesday, April 27, 2021

পথ

 পথ()

------জসীম উদ্দীন

পথ হাঁটতে গেলে পথের সাথে শুধুই পথই থাকেনা, পথের সাথে থাকে পথের আশে পাশের পারিপার্শিকতা। পথের পাশের গাছ-পালা, লতা-গুল্ম, পাক-পাখালী, এমনকি ছোট পিঁপড়েটা পর্যন্ত। পথকে পথে পথে সঙ্গ দেয় কত বিচিত্র জিনিষ। যেমন ধরুন পথ হাঁটতে হাঁটতে পথের ধারে দেখতে পেলেন নোংরা কাপড় পরা, দীর্ঘদিন  দাড়ী গোঁফ না কাটা এক মানসিক প্রতিবন্ধী লোক, যাকে আমরা পাগল নামে ডাকি। সে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ও অকেজো জিনিষ পত্র কুড়িয়ে এনে এগুলা নিয়ে নিজের মধ্যে নিজে এক আলদা জগত সাজিয়ে নিয়েছে। এই ভাঙ্গা চোড়া অকেজো জিনিষ নিয়ে সে নিজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রেখে সেখানে এক অপার আনন্দ খোঁজে পেয়েছে। এই যে তার আনন্দ এই পাগলের হাসিতে আমি সুখ খুঁজে পায়। 

পথ চলতে আমি এসকল বিচিত্র ধাঁচের বিচিত্র রকম জিনিষ দেখতে পায় বলে আমি পথে পথে অনন্দকেও খুঁজে পায়, তাই পথ চলতে বালবাসি। সে গ্রামের পথই হউক বা শহরের। গ্রামের পথে চলতে গেলে মনটা প্রকৃতির সাথে মিশে গিয়ে মনের ভিতর এক অনাবিল আনন্দের সৃষ্টি করে। মন যখন সবুজে সবুজে সারী সারী গাছ দেখে তখন চাই সবুজের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে। আবার গাছে গাছে যখন পাখির কলরব শুনে, হরেক রঙের পাখির হরেক রকম কলতানে চঞ্চল মন নিজেকে স্তির রাখতে পারেনা। তখন মন চাই পাখির পাখায় নিজেকে আকাশের পানে উড়িয়ে দিতে। আবার পথের ধারে যখন মৃদু মৃদু ঢেউ তুলে কিশোরীর মত ছোট্ট নদীটি ধেয়ে চলে তখন মন বলে নদী হয়ে বন বাদাড়ের ভিতর দিয়ে অজানার পানে চলে যায়।

এ গেল গ্রামের পথ। আবার শহরের পথে চলতে চলতে যখন ফুটপাত ধরে হাঁটি সে আর এক বিচিত্র অনুভূতি। 

সেই সিমেন্ট পলেস্তারার ফুটপাথ, অসংখ্য মানুষের চলাচল। ফুটপাতের হকার, তাদের হাঁক ডাক, ভিক্ষুক, তাদের ভিক্ষা করার নানা ফন্দী, ফুটপাতের পাশের দেয়াল লিখন, ফুটপাতে অবহেলায় অনাদরে বেড়ে উঠা পথ শিশু, আরো কত কিছু চোখে পড়ে। এসব জীবন ঘনিষ্ট অনুসঙ্গ আমার মানবিক অনভূতির তন্ত্রীকে তরঙ্গায়িত করে নানাভাবে।  

পথ অনেক চলেছি, অনেক কিছু দেখেছি, কিছু আনন্দের, যা আজো মনে আনন্দের উৎস হয়ে আছে মনের গভীরে। আবার কিছু আছে অনেক করুন,  অনেক ব্যথার যা আজো হৃদয়ে রক্ত ক্ষরন ঘটায়। মন এসব দৃশ্য দেখলে ব্যথায় কুঁকড়ে যায়। 

এখন শরৎকালের শুরু, শীত এখনো আসেনি তবে  চারিদিকে শীতের আমেজ। কুয়াসার স্বেত বস্ত্র পরিধান

করে ভোর তার ঘুমটা খুলে চোখ মেলে দেখছে তার রূপ ছড়ানো রূপালী জগৎ। এই ঋতু বৈচিত্রের কালে সব প্রয়োজন উপেক্ষা করে কয় দিনের জন্য স্বপ্নীল চোখের মাদকতা নিয়ে চলে গেলাম সেই বাল্যস্মৃতি সিক্ত মায়াময় গ্রামে।

আমাদের গ্রামটা বিরল এক ভৃপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট মন্ডিত গ্রাম। একদিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড় সাহসী বীরের মত। আবার বিপরীত দিকে আছে জন্মদাত্রিনী মায়ের মত বিশাল সাগর। তার বিস্তির্ণ জলরাশির শাড়ীর আঁচল এলাকা পাড়ের বিশাল জন গোষ্টীকে ঢেকে রেখেছে তার মমতার বন্ধনে। 

এই দুয়ের মাঝখান দিয়ে সরিসৃপের মত এঁকে বেঁকে চলে গেছে  শের শাহের মহান কীর্তি সুপ্রাচীন ঐতিহাসিক গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড। এ সড়ক পথের বুক চিরে যুগে য়ুগে সভ্যতার আলো নিয়ে এসেছে কত শাসক, ধর্মীয় সংস্কারক, কত সাহসী বীর। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মুগ্ধতা নিয়ে গড়া আমাদের গ্রাম। 

আজ অনেক দিন পর আবার গ্রামের পথে চলেছি। অল্পক্ষন হল বাস নামিয়ে দিল আমাদের গ্রামের বাজারে। বাজারে নেমে কয়জন বন্ধুর সাথে দেখা হল। কেউ বাজারে দোকানদারী করে, কেউ বাজার করতে এসেছে। 

এখন একটা জিনিষ লক্ষ্য করলাম গ্রামে আর গ্রাম্যতা নাই, শহরের মেকীময়তা গ্রামকেও গ্রাস করছে ধীরে ধীরে।

বাজার অর্থনীতির প্রভাব গ্রামেও প্রভাব ফেলছে। কারো যেন ফুরসত নেই, সবাই ছুটছে টাকার পেছনে। সব জায়গায় একটা চাকচিক্যের ছাপ, আগের মত ঝুপড়ী দোকান ঘর নাই,  বাজার সম্প্রসারনের জন্য বাজারের এক পাশে যে বিরাট বটগাছটা ছিল এখন তা আর নেই কেটে ফেলা হয়েছে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য, দুঃখ পেলাম বটগাছটাকে না দেখে। মনকে প্রবোধ দিলাম এভাবেই তো পৃথিবী থেকে চলে যেতে হবে মানুস, গাছ পালা পশু পাখি সবকিছুকে পুরাতন গিয়ে নতুনের বিজয় কেতন উড়বে। 

যাই হউক এখন গ্রামের পথে রওনা দেব, বাজারের পাশ দিয়ে চলে গেছে আমাদের গ্রামের পথ। পরিচিত কয়জন রিকসাওয়ালা চাইল তারা বাড়ী পৌঁছে দিতে, আমি কারো রিকসা নিলাম না। কারণ রিকসাতে গেলে আমার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই হাতের ব্যগটা কাঁধে ঝুলিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে চারিদিকে, পথের ধারে কুয়াশার চাদর শ্যমল সবুজ গাছ- পালার গায়ে ধূষর উর্ণী পড়িয়ে দিয়েছে। পাখিদের কলকাকলী শুনতে শুনতে হেঁটেই চলেছি।  বেশ ভালই লাগছে। পথে সাথী হল বৃদ্ধ কৃষক রমিজ উদ্দিন।

তার সাথে যেঁছে কথা শুরু করলাম, চাচা আসসামু আলাইকুম, কেমন আছেন?

ভাল আছি, তোমাকে চিনলাম না যে বাবা, 

তাকে বাবার পরিচয় দিলাম,

পরচয় পেয়ে বাবার প্রশংসা করে অনেক ফিরিস্তি গাইলেন।

তার কথা শেষ হলে তাকে বললাম

আপনি কোথায় গেছিলেন?

বাজারে গেছিলাম,

কেন গেছিলেন?

বাবা কিছু তরিতরকারি চাষ করেছি তা বিক্রি করতে ।

বিক্রি করেছেন?

করেছি,

দাম কেমন পেলেন?

ভাল, 

কি কি চাষ করেছেন? 

মিষ্টি কুমড়া, সীম, টমেটু,

কেমন ফলেছে?

বাবা এখন তো সব হাই ব্রীড, উচ্ছ ফলনশীল,

ফলন ভাল হয়, দামও মুঠামুটি আছে।

আপনার ছেলে মেয়ে কয়জন? তারা কি করে?

বড় ছেলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকে, মেঝ ছেলে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, মেয়েটা একটা প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে পড়ছে।

আমি খুশী হলাম  কৃষক পরিবারের সন্তানরাও আজ ভাল লেখা পড়া করে প্রতিষ্টিত হচ্ছে বলে। 

চাচী আছেন?

আছে বাবা, তবে অসুস্থ, ডাইবেটিস, ব্লাড প্রেসার বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায়ই শয্যাসায়ী। 

তুমি কি কর বাবা?

আমি একটি ব্যঙ্কে চাকরি করি,

তোমরা ভাই বোন কয়জন?

আমরা ভাই বোন তিন জন,

অন্যেরা কি করে?

বড় ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন,

আমার ছোট বোনও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।

আবার বাবার প্রসঙ্গ টেনে চাচা বলতে লাগলেন,

আহা তোমার বাবা অনেক ভাল মানুষ ছিলেন,  প্রথম এই এলাকার বি এ পাশ করা লোক।  তোমার বাবা বি এ পাশ করলে আমরা তাকে দেখতে গেছিলাম। তখন বিএ পাশ ফেলে রাখ, এন্ট্রেস পাশ অর্থাৎ মেট্রক পাশ করলে মানুষ দেখতে যেত। তোমার মা ভাল আছে?

জী-, তবে তিনিও চাচীর মত প্রসারের রোগী।

কথা বলতে বলতে চাচা তার বাড়ীর কাছে এসে পৌঁছল, তাই তাকে বিদায় দিতে হলো, সালাম জানিয়ে তাকে বিদায় দিলাম।

এখন আবার একা একা হাঁটতে শুরু করলাম, পথ হাঁটলে আমি পথের আশে পাশে দেখি, এমন কিছু চোখে লাগে কিনা। যা আমার লেখার খোরাক হতে পারে, বেশীক্ষন একা একা হাঁটতে হল না, লক্ষ্য করলাম একটা মধ্য বয়সী লোক চেহেরায় কিছুটা প্রতিবন্ধি ছাপ গরু চড়িয়ে গুধূলী লগ্নে বাড়ী ফিরছে। তিন চারটা গরু ও তাদের বাচুর। এসব সামলিয়ে পথ চলতে তার বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। একটাকে সামলাতে গেলে আর একটা রাস্তার পাশে ধান ক্ষেতে নেমে পড়ে মানুষের ধান খেয়ে ফেলে, নিসিন্দা গাছের ডাল দিয়ে মেরে আবার তাদের পথে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। মা' গরুকে নিয়ন্ত্রন করলে বাচ্ছা দুষ্টুমী করে, আবার বচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করলে মা গরু দুষ্টুমী করে। এরূপ ব্যস্ততার মাঝেও তার সাথে কথা জুড়ে দিলাম, মনে করেছিলাম বিরক্ত বোধ করবে, কিন্তু না, সেও যথাসাধ্য চেষ্টা করে আমার সাথে সঙ্গ দিতে।

চাচা কেমন আছেন? 

কেমন থাকব বাবা, দেখছনা, কি রকম আছি। 

গরু কি আপনার?

না বাবা, আমি এক গেরস্ত বাড়ীতে অনেক বৎসর ধরে কামলা থাকি। তাদের ঘর গেরস্তি চাষবাদ এগুলা দেখাশুনা করি, মাসে খাওয়া দাওয়া পোষাক আশাক সহ বর্তমানে তিন হাজার টাকা বেতন দেয়।

তো আপনার ছেলে মেয়ে কয়জন?

আমি ত বাবা বিয়ে করিনি,

এত বয়স হয়ে গেল বিয়ে করেন নি কেন?

বাবা আমরা গরীব মানুষ, সে অনেক কথা, গরীবের দুখের কাহিনী শুনে তোমাদের লাভ কি। 

বললাম আসুবিধা নাই চাচা আপনি বলুন।

তার দুখের কথা শুনার আগ্রহ দেখে সে স্বতঃস্ফুর্তভাবে তার জীবনের কিছু ঘটনার অবতারনা করতে লাগল ।

বলতে লাগল, আমার বয়স যখন সাত তখন আমার মা মারা যায়। মা মারা যাবার পর কিছুদিনের মধ্যে বাবাকে আত্মীয় স্বজন মিলে আবার একটা বিয়ে করিয়ে দেয়। বাবার বিয়ের পর শুরু হল সংসারে অশান্তি, নতুন মা আমাকে কিছুতেই সহ্য করতে পরছিলনা, বাবা নতুন মাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়েওৌ আমার উপর বৈরী মনোভাব রোধ করতে পারলনা, পরে বাবা আর উপায়আন্তর না দেখে আমাকে পাশের এক গেরস্ত বাড়ীতে চাকুরীতে দিয়ে দেয়। এইখানে আসার পর মা বাবার স্নেহ বঞ্চিত হয়ে আমি ধীরে ধীরে অন্য রকম হয়ে গেলাম, আমার বুদ্ধি আগের ছেয়ে অনেকটা লোপ পেয়ে গেল, আমি অন্য রকম এক মানুষে পরিনত হয়ে গেলাম। এভাবে এই বাড়ীতে দীর্ঘ চল্লিস বছর কাজ করতে করতে অনেকটা ওদের ফ্যামিলি মেম্বারের মত হয়ে গেলাম। কিন্তু তারা আমাকে তাদের ফ্যামেলির একজন মনে করলেও আমার লেখা পড়া, আমার ভবিষ্যত এসব নিয়ে চিন্তা করেনি, আমি একজন সংসাারী মানুষ হিসাবে আমার বিয়ে শাদী এসব ব্যপার নিয়ে মাথা ঘামায়নি। তাদের ধারনা আমি আমার সংসার জীবন চালনা করতে পারবনা, বউ বাচ্ছার খরছ পাতি মেটাতে পারবনা, তাই এভাবে আমার জীবনটা বাউন্ডেলেভাবে কেটে যায়। তবে আমার সাংসার জীবন না হলেও আমি আমার এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের এতিম ছেলেকে এতিম খানায় রেখে পালন করছি, তার লেখা পড়ার যাবতীয় খরছ আমি বহন করি। আমার কোন সন্তান না থাকলেও এছেলেটাকে আমি আমার সন্তান মনে করি। মাঝে মাঝে তার জন্য ভাল মন্দ খাবার কিনে নিয়ে যায়। কাপড় চোপড় কিনে দিই। তার বিভিন্ন সখ মেটাতে চেষ্টা করি। আমার জীবনের যত স্বাধ আল্লাদ তার মাধ্যমে পুরন করার চেষ্টা করি। চাচা মাঝে মাঝে গরু গুলাকে সামলিয়ে, আবার আমার কথায় মনোযোগী হয়, আবার কোন কোন সময়  কথার খেয় হারিয়ে ফেললে আমি খেয় ধরিয়ে দিই। এইভাবে চলতে চলতে তার জীবনের অলিখিত পুন্ডুলিপি আমার হৃদয়ে লিখে দিতে দিতে এক সময় এসে পৌছলাম আমাদের বাড়ীর কাছে। একটি করুন জীবনের এক ব্যথিত অভিনেতার জীবন যুদ্ধের গল্প শুনতে শুনতে   তাকে ব্যথা ভরা হৃদয়ে বিদায় জানাতে হল, আমি আমার বাড়ী দিকে রওনা দিলাম, সে অন্যপথে তার গন্তব্যে  গরুর পাল নিয়ে পথের সাথে মিশে গেল। আর আমাকে দিয়ে গেল জীবন যুদ্ধের একরাশ তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রছন্ড ঝাঁকুনী। 

 

-------------

Sunday, April 25, 2021

অচেনা শহর

 অচেনা শহর

------------জসীমউদ্দিন 

-২৫/০৪/২১

শহরের গহীন অরন্যে পায়রার খুপের ভিতর আমার বাস 

এখানে ভালবাসা যত আছে সব মেকী, 

ব্যবসায়ীর ভেজাল মেশানো পণ্যের মতো। 

রঙের বাহার মনহীন শহর জুড়ে

টাকার অক্টোপাসে বাঁধা পড়ে গেছে মানুষ নামের সব কীটরা।


এখানে এখন দাফন হয় ত্যাগী নেতার ত্যাগের লাশ

বুদ্ধিজিবীর মননে এখন আদর্শহীনতার বাস 

সম্ভ্রম হারা নারীরা প্রতিদিন লাগায় গলায় ফাঁস, 

তবুও এশহর জুড়ে কত উল্লাস, 

বলে, আমরা সভ্য শহরে বাস করি। 


এ এক অদ্ভুদ শহর ! 

এখানে গ্রামের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্টেরও অনেক দাম,

এখানে গ্রামের আন্ডা মাপলেট হয়ে বিকোয় চড়া দাম

এখানে গ্রামের অপাংতেয় বাটপাররা এসে করে বিত্তের সন্ধান।


এখানে অজগরের মত নদী কেঁচো হয়ে মরে যায় 

এখানে সরকারী কর্মচারীরা বাড়ী বানায় বেগম পাড়ায় 

এখানে ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করে রাজনীতির বারটা বাজায়। 

এখানে বুদ্ধিমানের আলিশান অট্টালিকা

তার পাশে বস্তিতে বাস করে যারা আছে বোকা। 

আবার অনেক বোকা ধোঁকা খেয়ে, ভবঘুরের মত রাস্তায় হাঁটে, একা একা। 

এ এক নিষ্টুর অচেনা শহরে আমার বাস,

এ শহরে অক্সিজেনের বড় অভাব 

আমার ফুসফুস ফেটে আসে সীমাহীন দীর্ঘশ্বাস। 

----------------------++++


একটি ছড়া

 পাগলা কাকা ( কবিতার পটভূমিঃ- এই ছড়া কবিতাটি মানসিক প্রতিবন্ধী  আমার এক দূর সম্পর্কীয় মরহুম কাকাকে নিয়ে, যিনি বেশ সম্পদশালী মানুষের সন্তান ছ...