Wednesday, April 28, 2021

দেহ ও মন বিষয়ক প্রবন্ধ

 দেহ ও মন(প্রবন্ধ)()

--------জসীম উদ্দীন

তাং-২৫/১০/১৮

মানুষের দেহকে এক জড় পিন্ড বলা যেত যদি তার কোন অনুভূতি না থাকত, কিন্তু অনুভূতি আছে বলে তাকে জড় পদার্থের অভিধায় অভিহিত করা যায়না, কারন সে সুখ দুখ বুঝে, তবে এপর্যন্তই। দেহের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই যে নিজের ইচ্ছায় চলবে, কিন্তু মানুষের দেহের ভিতর বাস করে যে মন সেই তাকে চালনা করে, তার  অসম্ভব ক্ষমতা, এমন বিশাল দেহী বুদ্ধিমান মানুষ এ অসম্ভব কর্মক্ষমতার অধিকারী নিজের  মনের নির্দেশের বাইরে এক চুলও নড় চড়া করতে পারে না। তার নির্দেশেই চলে দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। 

মন নামের এই অদৃশ্য অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী বায়বীয় অস্তিত্বকে মনে হবে আপনার নিয়ন্ত্রনাধীন কিন্তু আপনি নিজের মনকে নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন তাকে কতটুকু আপনার ইচ্ছার কাছে বশীভূত করে রাখতে পারছেন। আমি আমার নিজের উপলব্দী থেকে বলতে পারি মন নামের অদৃশ্য উপলব্দিটাকে  সব সময় আমার নিয়ন্ত্রনে রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করি কিন্তু পারিনা। কোন কাজ করতে গেলে মনকে স্তির রেখে করা আমার জন্য দুঃসাধ্য ব্যপার। আমি যখন একাগ্র মনে কাজ করতে যায় জানিনা কোন অজান্তে মনটা আমাকে ফাঁকি দিয়ে অন্যদিকে অন্যদিকে মনোযোগি করে তোলে আমাকে। সেটা সবকিছুতেই ঘটে, এমনকি জাগতিক কাজ ছাড়া পভূর নিকট পরজাগতিক প্রার্থনা করতে গেলেও এমনটা ঘটে। বরং আআরো বেশী করে ঘটে। আমি যখন নামাজের নিয়ত করে একাগ্র চিত্তে নামাজ পড়ি তখন মন কোন অলক্ষে অন্য আর এক চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আবার সম্বিত ফিরে এলে দেখি মন নামাজে একাগ্রচিত্ত না হয়ে অপ্রয়োজনীয় চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছে। এটা ধর্মীয় দৃষ্টি কোণ থেকে বললে বলতে হবে শয়তানের কাজ। শয়তান আল্লার কাছ থেকে দূরে রাখবার জন্য বান্দার মনের উপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে। আমরা আবার বলতে পারি শয়তানের কাজ হল মন্দ কাজে প্ররোচিত করা, আর ভাল কাজ থেকে মানুষকে দূরে রাখা। কিন্তু দেখা যায় অনেক সময় অনেক ভাল চিন্তাও এ অবাধ্য মন থেকে উৎসারিত হয়। তখন তো তাকে আর শয়তানের কাজ বলে অাখ্যায়িত করতে পারিনা। তাই বলি 'দেহ' 'মন' যতদিন প্রাণ আছে ততদিন জড়াজড়ি করে থাকবে। তবে একথা সত্য যে এই অস্তিত্বহীন বায়বীয় মনকে কোন দিন দেহ নামক অস্তিত্ব নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবেনা। এই লাঘামহীন পাগলা ঘোড়া নিজের ইচ্ছা মত সোয়ারীকে দাবড়ীয়ে বেড়াবে।

----------------------------------

Tuesday, April 27, 2021

পথ

 পথ()

------জসীম উদ্দীন

পথ হাঁটতে গেলে পথের সাথে শুধুই পথই থাকেনা, পথের সাথে থাকে পথের আশে পাশের পারিপার্শিকতা। পথের পাশের গাছ-পালা, লতা-গুল্ম, পাক-পাখালী, এমনকি ছোট পিঁপড়েটা পর্যন্ত। পথকে পথে পথে সঙ্গ দেয় কত বিচিত্র জিনিষ। যেমন ধরুন পথ হাঁটতে হাঁটতে পথের ধারে দেখতে পেলেন নোংরা কাপড় পরা, দীর্ঘদিন  দাড়ী গোঁফ না কাটা এক মানসিক প্রতিবন্ধী লোক, যাকে আমরা পাগল নামে ডাকি। সে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ও অকেজো জিনিষ পত্র কুড়িয়ে এনে এগুলা নিয়ে নিজের মধ্যে নিজে এক আলদা জগত সাজিয়ে নিয়েছে। এই ভাঙ্গা চোড়া অকেজো জিনিষ নিয়ে সে নিজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রেখে সেখানে এক অপার আনন্দ খোঁজে পেয়েছে। এই যে তার আনন্দ এই পাগলের হাসিতে আমি সুখ খুঁজে পায়। 

পথ চলতে আমি এসকল বিচিত্র ধাঁচের বিচিত্র রকম জিনিষ দেখতে পায় বলে আমি পথে পথে অনন্দকেও খুঁজে পায়, তাই পথ চলতে বালবাসি। সে গ্রামের পথই হউক বা শহরের। গ্রামের পথে চলতে গেলে মনটা প্রকৃতির সাথে মিশে গিয়ে মনের ভিতর এক অনাবিল আনন্দের সৃষ্টি করে। মন যখন সবুজে সবুজে সারী সারী গাছ দেখে তখন চাই সবুজের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে। আবার গাছে গাছে যখন পাখির কলরব শুনে, হরেক রঙের পাখির হরেক রকম কলতানে চঞ্চল মন নিজেকে স্তির রাখতে পারেনা। তখন মন চাই পাখির পাখায় নিজেকে আকাশের পানে উড়িয়ে দিতে। আবার পথের ধারে যখন মৃদু মৃদু ঢেউ তুলে কিশোরীর মত ছোট্ট নদীটি ধেয়ে চলে তখন মন বলে নদী হয়ে বন বাদাড়ের ভিতর দিয়ে অজানার পানে চলে যায়।

এ গেল গ্রামের পথ। আবার শহরের পথে চলতে চলতে যখন ফুটপাত ধরে হাঁটি সে আর এক বিচিত্র অনুভূতি। 

সেই সিমেন্ট পলেস্তারার ফুটপাথ, অসংখ্য মানুষের চলাচল। ফুটপাতের হকার, তাদের হাঁক ডাক, ভিক্ষুক, তাদের ভিক্ষা করার নানা ফন্দী, ফুটপাতের পাশের দেয়াল লিখন, ফুটপাতে অবহেলায় অনাদরে বেড়ে উঠা পথ শিশু, আরো কত কিছু চোখে পড়ে। এসব জীবন ঘনিষ্ট অনুসঙ্গ আমার মানবিক অনভূতির তন্ত্রীকে তরঙ্গায়িত করে নানাভাবে।  

পথ অনেক চলেছি, অনেক কিছু দেখেছি, কিছু আনন্দের, যা আজো মনে আনন্দের উৎস হয়ে আছে মনের গভীরে। আবার কিছু আছে অনেক করুন,  অনেক ব্যথার যা আজো হৃদয়ে রক্ত ক্ষরন ঘটায়। মন এসব দৃশ্য দেখলে ব্যথায় কুঁকড়ে যায়। 

এখন শরৎকালের শুরু, শীত এখনো আসেনি তবে  চারিদিকে শীতের আমেজ। কুয়াসার স্বেত বস্ত্র পরিধান

করে ভোর তার ঘুমটা খুলে চোখ মেলে দেখছে তার রূপ ছড়ানো রূপালী জগৎ। এই ঋতু বৈচিত্রের কালে সব প্রয়োজন উপেক্ষা করে কয় দিনের জন্য স্বপ্নীল চোখের মাদকতা নিয়ে চলে গেলাম সেই বাল্যস্মৃতি সিক্ত মায়াময় গ্রামে।

আমাদের গ্রামটা বিরল এক ভৃপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট মন্ডিত গ্রাম। একদিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড় সাহসী বীরের মত। আবার বিপরীত দিকে আছে জন্মদাত্রিনী মায়ের মত বিশাল সাগর। তার বিস্তির্ণ জলরাশির শাড়ীর আঁচল এলাকা পাড়ের বিশাল জন গোষ্টীকে ঢেকে রেখেছে তার মমতার বন্ধনে। 

এই দুয়ের মাঝখান দিয়ে সরিসৃপের মত এঁকে বেঁকে চলে গেছে  শের শাহের মহান কীর্তি সুপ্রাচীন ঐতিহাসিক গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড। এ সড়ক পথের বুক চিরে যুগে য়ুগে সভ্যতার আলো নিয়ে এসেছে কত শাসক, ধর্মীয় সংস্কারক, কত সাহসী বীর। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মুগ্ধতা নিয়ে গড়া আমাদের গ্রাম। 

আজ অনেক দিন পর আবার গ্রামের পথে চলেছি। অল্পক্ষন হল বাস নামিয়ে দিল আমাদের গ্রামের বাজারে। বাজারে নেমে কয়জন বন্ধুর সাথে দেখা হল। কেউ বাজারে দোকানদারী করে, কেউ বাজার করতে এসেছে। 

এখন একটা জিনিষ লক্ষ্য করলাম গ্রামে আর গ্রাম্যতা নাই, শহরের মেকীময়তা গ্রামকেও গ্রাস করছে ধীরে ধীরে।

বাজার অর্থনীতির প্রভাব গ্রামেও প্রভাব ফেলছে। কারো যেন ফুরসত নেই, সবাই ছুটছে টাকার পেছনে। সব জায়গায় একটা চাকচিক্যের ছাপ, আগের মত ঝুপড়ী দোকান ঘর নাই,  বাজার সম্প্রসারনের জন্য বাজারের এক পাশে যে বিরাট বটগাছটা ছিল এখন তা আর নেই কেটে ফেলা হয়েছে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য, দুঃখ পেলাম বটগাছটাকে না দেখে। মনকে প্রবোধ দিলাম এভাবেই তো পৃথিবী থেকে চলে যেতে হবে মানুস, গাছ পালা পশু পাখি সবকিছুকে পুরাতন গিয়ে নতুনের বিজয় কেতন উড়বে। 

যাই হউক এখন গ্রামের পথে রওনা দেব, বাজারের পাশ দিয়ে চলে গেছে আমাদের গ্রামের পথ। পরিচিত কয়জন রিকসাওয়ালা চাইল তারা বাড়ী পৌঁছে দিতে, আমি কারো রিকসা নিলাম না। কারণ রিকসাতে গেলে আমার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই হাতের ব্যগটা কাঁধে ঝুলিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে চারিদিকে, পথের ধারে কুয়াশার চাদর শ্যমল সবুজ গাছ- পালার গায়ে ধূষর উর্ণী পড়িয়ে দিয়েছে। পাখিদের কলকাকলী শুনতে শুনতে হেঁটেই চলেছি।  বেশ ভালই লাগছে। পথে সাথী হল বৃদ্ধ কৃষক রমিজ উদ্দিন।

তার সাথে যেঁছে কথা শুরু করলাম, চাচা আসসামু আলাইকুম, কেমন আছেন?

ভাল আছি, তোমাকে চিনলাম না যে বাবা, 

তাকে বাবার পরিচয় দিলাম,

পরচয় পেয়ে বাবার প্রশংসা করে অনেক ফিরিস্তি গাইলেন।

তার কথা শেষ হলে তাকে বললাম

আপনি কোথায় গেছিলেন?

বাজারে গেছিলাম,

কেন গেছিলেন?

বাবা কিছু তরিতরকারি চাষ করেছি তা বিক্রি করতে ।

বিক্রি করেছেন?

করেছি,

দাম কেমন পেলেন?

ভাল, 

কি কি চাষ করেছেন? 

মিষ্টি কুমড়া, সীম, টমেটু,

কেমন ফলেছে?

বাবা এখন তো সব হাই ব্রীড, উচ্ছ ফলনশীল,

ফলন ভাল হয়, দামও মুঠামুটি আছে।

আপনার ছেলে মেয়ে কয়জন? তারা কি করে?

বড় ছেলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকে, মেঝ ছেলে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, মেয়েটা একটা প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে পড়ছে।

আমি খুশী হলাম  কৃষক পরিবারের সন্তানরাও আজ ভাল লেখা পড়া করে প্রতিষ্টিত হচ্ছে বলে। 

চাচী আছেন?

আছে বাবা, তবে অসুস্থ, ডাইবেটিস, ব্লাড প্রেসার বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায়ই শয্যাসায়ী। 

তুমি কি কর বাবা?

আমি একটি ব্যঙ্কে চাকরি করি,

তোমরা ভাই বোন কয়জন?

আমরা ভাই বোন তিন জন,

অন্যেরা কি করে?

বড় ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন,

আমার ছোট বোনও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।

আবার বাবার প্রসঙ্গ টেনে চাচা বলতে লাগলেন,

আহা তোমার বাবা অনেক ভাল মানুষ ছিলেন,  প্রথম এই এলাকার বি এ পাশ করা লোক।  তোমার বাবা বি এ পাশ করলে আমরা তাকে দেখতে গেছিলাম। তখন বিএ পাশ ফেলে রাখ, এন্ট্রেস পাশ অর্থাৎ মেট্রক পাশ করলে মানুষ দেখতে যেত। তোমার মা ভাল আছে?

জী-, তবে তিনিও চাচীর মত প্রসারের রোগী।

কথা বলতে বলতে চাচা তার বাড়ীর কাছে এসে পৌঁছল, তাই তাকে বিদায় দিতে হলো, সালাম জানিয়ে তাকে বিদায় দিলাম।

এখন আবার একা একা হাঁটতে শুরু করলাম, পথ হাঁটলে আমি পথের আশে পাশে দেখি, এমন কিছু চোখে লাগে কিনা। যা আমার লেখার খোরাক হতে পারে, বেশীক্ষন একা একা হাঁটতে হল না, লক্ষ্য করলাম একটা মধ্য বয়সী লোক চেহেরায় কিছুটা প্রতিবন্ধি ছাপ গরু চড়িয়ে গুধূলী লগ্নে বাড়ী ফিরছে। তিন চারটা গরু ও তাদের বাচুর। এসব সামলিয়ে পথ চলতে তার বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। একটাকে সামলাতে গেলে আর একটা রাস্তার পাশে ধান ক্ষেতে নেমে পড়ে মানুষের ধান খেয়ে ফেলে, নিসিন্দা গাছের ডাল দিয়ে মেরে আবার তাদের পথে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। মা' গরুকে নিয়ন্ত্রন করলে বাচ্ছা দুষ্টুমী করে, আবার বচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করলে মা গরু দুষ্টুমী করে। এরূপ ব্যস্ততার মাঝেও তার সাথে কথা জুড়ে দিলাম, মনে করেছিলাম বিরক্ত বোধ করবে, কিন্তু না, সেও যথাসাধ্য চেষ্টা করে আমার সাথে সঙ্গ দিতে।

চাচা কেমন আছেন? 

কেমন থাকব বাবা, দেখছনা, কি রকম আছি। 

গরু কি আপনার?

না বাবা, আমি এক গেরস্ত বাড়ীতে অনেক বৎসর ধরে কামলা থাকি। তাদের ঘর গেরস্তি চাষবাদ এগুলা দেখাশুনা করি, মাসে খাওয়া দাওয়া পোষাক আশাক সহ বর্তমানে তিন হাজার টাকা বেতন দেয়।

তো আপনার ছেলে মেয়ে কয়জন?

আমি ত বাবা বিয়ে করিনি,

এত বয়স হয়ে গেল বিয়ে করেন নি কেন?

বাবা আমরা গরীব মানুষ, সে অনেক কথা, গরীবের দুখের কাহিনী শুনে তোমাদের লাভ কি। 

বললাম আসুবিধা নাই চাচা আপনি বলুন।

তার দুখের কথা শুনার আগ্রহ দেখে সে স্বতঃস্ফুর্তভাবে তার জীবনের কিছু ঘটনার অবতারনা করতে লাগল ।

বলতে লাগল, আমার বয়স যখন সাত তখন আমার মা মারা যায়। মা মারা যাবার পর কিছুদিনের মধ্যে বাবাকে আত্মীয় স্বজন মিলে আবার একটা বিয়ে করিয়ে দেয়। বাবার বিয়ের পর শুরু হল সংসারে অশান্তি, নতুন মা আমাকে কিছুতেই সহ্য করতে পরছিলনা, বাবা নতুন মাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়েওৌ আমার উপর বৈরী মনোভাব রোধ করতে পারলনা, পরে বাবা আর উপায়আন্তর না দেখে আমাকে পাশের এক গেরস্ত বাড়ীতে চাকুরীতে দিয়ে দেয়। এইখানে আসার পর মা বাবার স্নেহ বঞ্চিত হয়ে আমি ধীরে ধীরে অন্য রকম হয়ে গেলাম, আমার বুদ্ধি আগের ছেয়ে অনেকটা লোপ পেয়ে গেল, আমি অন্য রকম এক মানুষে পরিনত হয়ে গেলাম। এভাবে এই বাড়ীতে দীর্ঘ চল্লিস বছর কাজ করতে করতে অনেকটা ওদের ফ্যামিলি মেম্বারের মত হয়ে গেলাম। কিন্তু তারা আমাকে তাদের ফ্যামেলির একজন মনে করলেও আমার লেখা পড়া, আমার ভবিষ্যত এসব নিয়ে চিন্তা করেনি, আমি একজন সংসাারী মানুষ হিসাবে আমার বিয়ে শাদী এসব ব্যপার নিয়ে মাথা ঘামায়নি। তাদের ধারনা আমি আমার সংসার জীবন চালনা করতে পারবনা, বউ বাচ্ছার খরছ পাতি মেটাতে পারবনা, তাই এভাবে আমার জীবনটা বাউন্ডেলেভাবে কেটে যায়। তবে আমার সাংসার জীবন না হলেও আমি আমার এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের এতিম ছেলেকে এতিম খানায় রেখে পালন করছি, তার লেখা পড়ার যাবতীয় খরছ আমি বহন করি। আমার কোন সন্তান না থাকলেও এছেলেটাকে আমি আমার সন্তান মনে করি। মাঝে মাঝে তার জন্য ভাল মন্দ খাবার কিনে নিয়ে যায়। কাপড় চোপড় কিনে দিই। তার বিভিন্ন সখ মেটাতে চেষ্টা করি। আমার জীবনের যত স্বাধ আল্লাদ তার মাধ্যমে পুরন করার চেষ্টা করি। চাচা মাঝে মাঝে গরু গুলাকে সামলিয়ে, আবার আমার কথায় মনোযোগী হয়, আবার কোন কোন সময়  কথার খেয় হারিয়ে ফেললে আমি খেয় ধরিয়ে দিই। এইভাবে চলতে চলতে তার জীবনের অলিখিত পুন্ডুলিপি আমার হৃদয়ে লিখে দিতে দিতে এক সময় এসে পৌছলাম আমাদের বাড়ীর কাছে। একটি করুন জীবনের এক ব্যথিত অভিনেতার জীবন যুদ্ধের গল্প শুনতে শুনতে   তাকে ব্যথা ভরা হৃদয়ে বিদায় জানাতে হল, আমি আমার বাড়ী দিকে রওনা দিলাম, সে অন্যপথে তার গন্তব্যে  গরুর পাল নিয়ে পথের সাথে মিশে গেল। আর আমাকে দিয়ে গেল জীবন যুদ্ধের একরাশ তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রছন্ড ঝাঁকুনী। 

 

-------------

Sunday, April 25, 2021

অচেনা শহর

 অচেনা শহর

------------জসীমউদ্দিন 

-২৫/০৪/২১

শহরের গহীন অরন্যে পায়রার খুপের ভিতর আমার বাস 

এখানে ভালবাসা যত আছে সব মেকী, 

ব্যবসায়ীর ভেজাল মেশানো পণ্যের মতো। 

রঙের বাহার মনহীন শহর জুড়ে

টাকার অক্টোপাসে বাঁধা পড়ে গেছে মানুষ নামের সব কীটরা।


এখানে এখন দাফন হয় ত্যাগী নেতার ত্যাগের লাশ

বুদ্ধিজিবীর মননে এখন আদর্শহীনতার বাস 

সম্ভ্রম হারা নারীরা প্রতিদিন লাগায় গলায় ফাঁস, 

তবুও এশহর জুড়ে কত উল্লাস, 

বলে, আমরা সভ্য শহরে বাস করি। 


এ এক অদ্ভুদ শহর ! 

এখানে গ্রামের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্টেরও অনেক দাম,

এখানে গ্রামের আন্ডা মাপলেট হয়ে বিকোয় চড়া দাম

এখানে গ্রামের অপাংতেয় বাটপাররা এসে করে বিত্তের সন্ধান।


এখানে অজগরের মত নদী কেঁচো হয়ে মরে যায় 

এখানে সরকারী কর্মচারীরা বাড়ী বানায় বেগম পাড়ায় 

এখানে ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করে রাজনীতির বারটা বাজায়। 

এখানে বুদ্ধিমানের আলিশান অট্টালিকা

তার পাশে বস্তিতে বাস করে যারা আছে বোকা। 

আবার অনেক বোকা ধোঁকা খেয়ে, ভবঘুরের মত রাস্তায় হাঁটে, একা একা। 

এ এক নিষ্টুর অচেনা শহরে আমার বাস,

এ শহরে অক্সিজেনের বড় অভাব 

আমার ফুসফুস ফেটে আসে সীমাহীন দীর্ঘশ্বাস। 

----------------------++++


Friday, April 23, 2021

আস্থা

 আস্থা()

---------জসীম উদ্দীন

আমাদের আগের বিড়ালটি মারা যাবার পর আমার মেয়ে আর একটি বিড়াল ছানার জন্য বায়না ধরে, আমি অনেক খোঁজা খোঁজির করেও  একটি বিড়াল ছানা জোগার করতে পারিনি। মেয়ে তার ফেইসবুক গ্রুপে খবর পায় একটি মেয়ে একটি বিড়াল ছানা দত্তক দিবে। সাথে সাথে সে তার সাথে যোগাযোগ করে। জানতে পারে তাদের পোষা বিড়ালটি নাকি বেশ কয়েকটি বাচ্ছা দিয়েছে। তাই সেই বাচ্ছাদের থেকে একটি দত্তক দিতে চাইছে। এখন বিড়াল ছানাটি দত্তক  আনতে হবে।  আমি মেয়ের অনুরোধে তার সাথে  ছানাটি আনতে যেতে রাজী হলাম। আগে যোগায়োগ করে মেয়েকে নিয়ে তাদের বাসায় গেলাম।  মেয়ের বান্ধবী তখন বাসায় ছিলনা, মাকে বলে গেছে আমাদের আসার কথা। গিয়ে দেখলাম মেয়েটির মা বাসার ড্রয়িং রূমে কাঁথার  জড়িয়ে মানুষের বাচ্চার মত বিড়াল ছানাটিকে বুকে নিয়ে উৎকন্ঠিত চিত্তে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমরা বিড়াল ছানাটির প্রতি তার অত্যাধিক আদর দেখে অভিভূত হলাম। তিনি যখন বিড়াল ছানাটি আমাদের কাছে তুলে দিচ্ছিেলন তখন উৎকন্ঠিত কন্ঠে বলতে লাগলেন 'আপনারা এ ছানাটি দেখে রাখবেন, অবহেলা করবেনা না, আদর করবেন, য়দি পোষতে না পারেন তাহলে কোথাও ফেলে দিবেননা, আমাকে দিয়ে যাবেন। আমি ওদের নিজের সন্তানের মত আদর করি ভালবাসি।'' এ কথাগুলা বলতে বলতে মহিলাটি কান্না জুড়ে দিল। আমি চিন্তা করলাম পৃথিবী থেকে মায়া মমতা এখনো হারিয়ে যায়নি। এখনো কিছু দয়ালো মানুষ আছে বলে পৃথিবীটা এখনো সুন্দর মায়াবী লাগে।

যাই হউক, কান্না কাটির মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের হাতে বিড়াল ছানাটি তুলে দিলেন। আমরা একটা সিএনজি করে ছানাটি বাসায় নিয়ে এলাম। একটি বাক্সের মধ্যে তার থাকার ব্যবস্থা করলাম। কিন্তু সে সেখানে থাকবেনা, সে আমাদের সাথে থাকতে বেশী পছন্দ করে। তাকে আমরা দুধ খেতে দিলে সে তেমন খেতে চাইনা, দুধ থেকে তার বেশী পছন্দ মাছ। মাছের সাথে ভাত মেখে দিলে বেশ আনন্দে খায়। মনে হয় খুব ছোট থেকে তাকে মাছ ভাতে অভ্যস্ত করে তোলা হয়েছে। তার রুচি অনুযায়ী তাকে খাবার দিয়ে, মাঝে মাঝে ঠান্ডা লাগলে, পেটে অসুখ হলে নার্সের মত সেবা দিয়ে তাকে আমার মেয়ে সারিয়ে তোলে। এভাবে আমার ছেলে  মেয়ে এবং স্ত্রী অনেক আদর যত্ন করে বিড়াল চানাটি পোষতে লাগল, শুধু তাই নয়, তার একটি সুন্দর নামও রাখল। সবাই তাকে ডোরা নামে ডাকি। এভাবে ধীরে ধীরে বিড়াল ছানাটি বড় হতে লাগল। ঐ মহিলাটি যে রকম আদর করে তার বাসায় ছানাটিকে পোষছিল তার থেকে আমাদের বাসায়ও এই ছানাটির আদর য়ত্নের কোন কমতি ছিলনা। মাঝে মাঝে আমার মেয়ে বউয়ের মত করে সাজিয়ে বিড়ালটির সর্বশেষ আপডেট ছবি ওই  মেয়েটির মেসেঞ্জোরে পাঠায়। এখন তারাও আশ্বস্থ  যে তাদের দেয়া বিড়াল ছানটি বেশ ভালই আছে। তাই তারাও আর আগের মত তেমন খোঁজ খবর নেয় না। 

     আমাদের ডোরা এখন বেশ বড় এবং নাদুষ নোদুষ হয়েছে, তার ধবধবে সাদা রঙ, শুধু বাম কানের গোড়ায় একটু করে কালো ছোপ। তুলতুলে শরীর, চঞ্চল চাহনী, খাবার জন্য মিউ মিউ আওয়াজ আমরা দারুন উপভোগ করি। এখনো সে ঘরের বাইরে যেতে বেশ ভয় পায়, কারন বাইরের পরিবেশ তার জন্য একেবারেই অপরিচিত। তবে ইদানিং ধীরে ধীরে সে একটু আধটু বাইরে যাবার চেষ্টা করে, জানালার পাশে গিয়ে গভীর আগ্রহ নিয়ে চারিদিকের গাছ গাছালী, পাক পাখালী, পর্যবেক্ষণ করে। হঠাৎ বাইরের কোন বিড়াল দেখলে লেজ গুঠিয়ে পালিয়ে খাটের নীচে লুকিয়ে থাকে যতক্ষন পর্যন্ত না ভয় কাটে।কিছুদিন থেকে দেখছি ডোরার কাছে ছাই বাদমী মিশেল রঙের একটা অপরিচিত বিড়াল এসে ঘুর ঘুর করছে। আমরা ওই বিড়ালটির কাছে গেলে ও ভয়ে পালিয়ে যায়।  আমরা চলে এলে আবার ডোরার সাথে দৌড়াদৌড়ি, লাফালাফি করে খেলা করে। ডোরাও তার সাথে খেলতে পেরে বেশ খুশী। আমরা দূর থেকে এসব দেখি। সুন্দর লাগে তাই আনন্দ পায়। 

      এখন ডোরার অপরিচিত বন্ধু বিড়ালটা আগের থেকে অনেক সহজ হয়েছে। আগে আমাদের দেখলে পালিয়ে গেলেও এখন একটু যেন আস্থা পাচ্ছে। মনে হয় সে ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে আমরা তার কোন ক্ষতি করবনা। তাই মাঝে মাঝে কাছে আসে, আমরা হাত দিয়ে আদর করতে গেলে পালিয়ে যায়। বেশ কিছুদিনের মধ্যে দেখলাম সে আমাদের ডোরার আরো ঘনিষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের ডোরাকে নিয়ে বাইরে বেড়াতে বের হয়। ডোরাও তাকে পেয়ে একটু সাহসী হয়েছে। বেশ কিছুদিনের মধ্যে দেখলাম সে আর আমাদের মোঠেই ভয় পাচ্ছেনা। ডোরা যেরকম আমাদের সাথে স্বাভাবিক সেও এখন সেরকম। ডোরার সাথে আমাদের বিছানায় উঠে ঘুমাই। ডোরার মত আমাদের কাছে মিউ মিউ আবদার  করে খাবার চাই, এভাবে ডোরার সাথে তার বন্ধুত্বের মধ্যে দিয়ে এখন আমাদের ঘরের বিড়াল হয়ে গেছে। বাইরে গেলেও একটু এদিক ওদিক  ঘুরে আবার ফিরে আসে। এখন তার আমাদের উপর পূর্ণ আস্থা। আমি মাঝে মাঝে কোলে নিয়ে রসিকতা করে জানালা দিয়ে বের করে দিয়ে বলি তুই আমাদের বিড়াল না, তুই চলে যা। কিন্তু সে মূহূর্তেই অন্য জানলা দিয়ে আবার ফিরে এসে ডোরার সাথে বসে থাকে। এই বন্য বিড়ালটি থেকে এ শিক্ষাই পেলাল ভালবাসা আর আস্থা দিয়ে পৃথিবীতে সব কিছুকে বসে আনা যায়। আস্থা আর ভালবাসাই জগতের সব সুখ। একে অপরের প্রতি আস্থাবান হউন, তারপর ভালবাসা এমনিতেই তোমার জগতকে সুন্দর আর আনন্দময় করে তুলবে। এই বন্য বিড়াটি যেমন আমাদের  ভালবাসা আর আস্থা পেয়ে আমাদের কাছে পোষ মেনে গেছে।

-------------------------------------------------------------

Thursday, April 22, 2021

করোনা ভয় করোনার ভাবনা

 করোনার ভয় করোনার ভাবনা

-----------জসীম উদ্দীন

২৬/০৬/২০

এমন এক মহামারী আমাদের জীবনকে পেয়ে বসেছে, জীবনের সবকিছুতে সে প্রভাব ফেলছে। ঘর থেকে দু পা দূরকেও বহুদূর মনে হয়। কেননা মাস্ক ছাড়া, সুরক্ষা ছাড়া দু পা'ও এগুতেও ভয় লাগে। যদি করোনা পেয়ে বসে! তাই ঘরকে বেছে নিতে হয় নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে। কিন্তু সারাদিন ঘরে বসে থাকা কি সম্ভব? মাঝে মাঝে অনিচ্ছা সত্বেও বের হতে হয়। গণ পরিবহনে চড়তে হয়। বাজারে যেতে হয়। কিন্তু বাইরে গেলে দেখি মানুষে মানুষে সেই আবেগ সেই অনুভূতির প্রকাশে দারুন এক পরিবর্তন এসেছে। এক মানুষ যেন আর এক মানুষের শত্রু, কেউ কারো কাছে ঘেষতে চাইনা। কেউ কারো হাত গা স্পর্শ করতে চাইনা। যদি করোনা লেগে যায়। করোনা আক্রান্ত মাকে জঙ্গলে ফেলে চলে যাচ্ছে ছেলে, করোনা আক্রান্ত বাবাকে মুরগী ফার্মে ফেলে রেখে অবহেলায় মেরে ফেলছে। ছেলে মেয়ে মা বাবার মৃত দেহ দেখতে চাইনা, এমন কি দাফন কাফন কোথায় হচ্ছে তারও খোঁজ রাখতে চাইনা। জানিনা করোনা মহামারী কখন যাবে, কখন আবার সেই আগের দিনে ফিরে আসব। আদৌ ফিরে আসতে পারব কিনা। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুক, করোনা এ পৃথিবী থেকে চলে যাক। সবাই হাসি খুশীতে থাকুক। এ কামনাই করছি। 

করোনার লকডাউন

 সারাদেশ রেড জোন

---------জসীম উদ্দীন

তাং-----২৭/০৬/২০

লকডাউনে লক নাই মানুষেরা ঘুরছে

মুখের মাস্কখানি গলায় ঝুলছে।


সারাদেশ রেড জোন অার কোন জোন নাই

গ্রাম গঞ্জ শহরে, মহামারি গেছে ছাঁই।


স্বাস্থ্যের দপ্তরে যোগ্যের ঠাঁই নেই

অযোগ্যের খপ্পরে রোগী মরে রাস্তায়।


অাই সিও, অক্সিজেন পাওয়া যেন ভাগ্য

গরীবেরা কেউ নয়, তা পাওয়ার যোগ্য।


প্রাইভেট মেডিকেল তালা মেরে বন্ধ

সরকার দেখে তা চোখ করে বন্ধ।


কারো কোন খোঁজ নেই লোক কেন মরছে

করোনাকে পুঁজি করে ব্যবসা চলছে।


জ্বর কাঁশি সাথে নিয়ে লাইন ধরে রাস্তায়

নমুনার ফল পেতে দশ দিন পস্তায়।


ফল যবে হাতে আসে রোগী হয় মৃত্যু

করোনা ছিল কিনা জানেনা সে সত্য। 


জানিনা কত লোক মরবে করোনায়

কার নাম যোগ হবে মৃত্যুর মোহনায়।

----------------------------

Wednesday, April 21, 2021

করোনা ও মানুষের মনোজগৎ

  করোনা কভিড ও মানুষের মনোজগৎ()

----------জসীম উদ্দীন

১৮/০৬/২০২০

 করোনা মানুষের মনোজগৎকে এমন এক বৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলেছে, মানুষ তার চিন্তার সাবলীল ধারাটা নিয়ে করোনাকে এড়িয়ে চলতে পারছেনা।  সব ক্ষেত্রে করোনা মানুষকে গ্রাস করে ফেলছে। সকালে ঘুম থেকে জেগে যে করোনা আতঙ্ক পেয়ে বসে, সারাদিন  তা একটা না একটা উপলক্ষ্য নিয়ে সবাইকে ঘিরে রাখে। যেমন সকালে উঠে যখন দাঁত ব্রাস করতে যায় তখন মনে হয় ব্রাশে কোন করোনাভাইরাস লেগে আছে কিনা। তারপর চা নাস্তা সেরে যখন টিভি দেখি তখন শুনি  সারা বিশ্বের করোনা খবর, করোনা আতঙ্ক, করোনা সংক্রমন আর মৃত্যু। যখন টিভিতে শত শত লাশের সারী, শত শত গণকবর দেখি তখন মনের  ভিতর একটা বেদনা বিদুর অনুভূতি জাগরিত হয়, মনের ভিতর উঁকি দেয় আমিও কি একদিন এ লাশের সারীর সাথে শরিক হতে যাচ্ছি? কারন যে মানুষগুলা এক মাস আগেও কত প্রনোচ্ছল ছিল, তাদের স্ত্রী পুত্র কন্যাদের নিয়ে প্রাণের বন্যায় চঞ্চল ছিল, কিন্তু তারা আজ নিথর হয়ে কবরবাসী। আবার বাইরে যখন বের হই তখন তখন মনের ভিতর সন্দেহ জাগে এই বুঝি কভিডে আক্রান্ত হয়ে গেছি। এই সব চিন্তা যখন আপনার আমার মাথায়  ঘোর পাক খাবে তখন আমরা কিভাবে স্বাভাবিক জীবন যাপন করব, জীবন জীবিকা চালিয়ে যাব, সুষ্ট চিন্তা করব আর সৃজনশীল মানুষ হলে সৃজনশীলতার দিকে মনোনিবেশ করব। কিভাবে একটি সুন্দর কবিতা বা সাহিত্য রচনা করব? করোনাকালের করোনা পরিবেশে সব করোনাময় বলে মনে হয়। যারা লেখেন তাদের কলমের ডগা করোনার পরিধীর বাইরে বেরোতে পারেনা। জানিনা করোনা কভিড আর কত কাল জগদ্দল পাথর হয়ে মানুষের মনোরাজ্যকে গ্রাস করে রাখবে। কতদিনে দূর হবে মানুষের মনো জগতের করোনা মেঘ । আমাদের ভালবাসার পাখি একটু স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলবে, আর পৃথিবীর সবুজ পাতায় আবার আমরা লিখব জীবনের গল্প, হাসির গল্প, আনন্দের গল্প, ভালবাসার গল্প। জীবন ভরে উঠবে আগের মত সাগরের ঢেউময়তায়, নদীর উচ্ছলতায়, আকাশের নির্মল প্রানবন্ততায়। জানিনা সবাই কখন করোনা মৃত্যুর আতঙ্ক থেকে  রেহায় পাবে। (মোঃ জসীম উদ্দীন)

জনগণের সরকার বনাম ব্যবসায়ীদের সরকার

 জনগনের সরকার বনাম ব্যবসায়ীদের সরকার()

--------------জসীম উদ্দীন

১২/০৬/২০

সামরিক স্বৈরাচারের শাসনামল থেকে আমাদের রাজনীতি যে রাজনীতিবিদদের হাত থেকে ছিনতাই হয়ে গেছে "I will make politics difficult for politician". সামরিক স্বৈরাচারারা সেই উক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তারা রাজনীতিকে রাজনীতিবিদের হাতে রাখতে চাননি। আর এই উক্তির খেসারত জাতিকে আজো পর্যন্ত দিয়ে যেতে হচ্ছে। আরো কত কাল তা দিয়ে য়েতে হবে একমাত্র নিয়তিই জানেন।১৫ই আগষ্ট জাতির পিতার হত্যার পর সামরিক শাসক নিজেরা ক্ষমতা দখল করে তা পাকাপোক্ত করতে স্বাধীনতা বিরোধিদের সাথে নিয়ে বেশ কিছু অরাজনৈতিক ব্যাক্তি এবং ব্যবসায়ীদের   অবৈধ ক্ষমতার বৃত্তে নিয়ে আসেন। সামরিক স্বৈরাচার বিদায় নিলেও তার ধারাবাহিকতা পরবর্তীতে সকল সরকার অনুশরন করে আসছে। আওয়ামীলীগকেও রাজনীতিতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পরবর্তীতে সেই নীতি অনুশরন করতে বাধ্য হয়েছিল। যা এখনো বলবৎ আছে। 

যার ফল স্বরূপ এই গন মানুষের রাজনৈতিক দল এখন গর্মেন্টস মালিক, হাসপাতালের মালিক, পরিবহন মালিক, আমদানি রফতানীকরক ব্যবসায়ীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এই ব্যবসায়ীরা এখন একাধারে ব্যাবসায়ী এবং রাজনীতিবিদ। তারা দেশ বুঝেনা তারা ব্যবসা বুঝে, তারা মানুষ বুঝেনা তার মুনাফা বুঝে। পূর্বে রাজনীতিবিদরা রাজনীতিই করত। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করত, অন্য পেশার লোক রাজনীতি করতে চাইলে তাকে আগে গন মানুষের নাড়ীর স্পন্দন বুঝে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে আসতে হত, আর সাধারন কর্মীরা তৃনমূল পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে রাজনীতি করে নেতা হয়ে জাতীয় পর্যায়ে আসত। এই পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদদের ছিল জনগনের নিকট বিরাট দায়বদ্ধতা,অনেক দরদ। এই জননেতারাও আজ এই উড়ে এসে জুড়ে বসাদের ভীড়ে কোণঠাসা। তারাও দেখছে এত ত্যাগ এত সততা এসব কিছুরই তো দাম নেই। টাকা থাকলে একদিনেই নেতা হাওয়া যায়, এমপি হাওয়া যায়। তাই তাদের সততাইও শৈথিল্য এসে গেছে। তার কুফল আজকে আমরা দেখছি। 

সরকারকে আজ চলতে হচ্ছে  এই নিষ্টাবান রাজনীতিকদের বাদ দিয়ে  এই মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের কথায়, জনগনের কথা চিন্তা করে সরকার লকডাউন দিলে আবার ব্যবসায়ীদের চাপে তা তুলে নিতে হচ্ছে।  করোনা সক্রমন থেকে শ্রমিকদের বাঁচাতে সব মিল কারখানা বন্ধ করে দিলে, গার্মেন্টস মালিকরা সরকারের তোয়াক্কা না করে শ্রমিকদের কাজ করাতে আবার গ্রাম থেকে ফিরয়ে আনছে। ঈদে সরকার দোকানপাট বন্ধ করতে চাইলে, ব্যবসায়ীদের চাপে দোকান পাঠ খুলে দিতে হচ্ছে, এখন কথা হল জনগনের জীবন আগে না ব্যবসা আগে? জনগনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে কিসের ব্যবসা? কিসের উন্নতি? এই গেল ব্যবসা খাত।     

এখন আসি স্বাস্থ্য খাত, এই স্বাস্থ্যখাতে যে দূর্নীতি তা তো আগে থকে চলে আসছে তা কারো অজানা নয়, ইদানিং মাস্ক, পিপিই নিয়ে যে দূর্নীতি হলো তার তড়িৎ কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন বোধগম্য নয়। এখন প্রাইভেট হাসপাতাল গুলা সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তাদের মত করে চলছে, মানুষ সেবা না পেয়ে এ হাসপাতাল থেকে ওহাসপাতালে ঘুরে ঘুরে  এম্বুলেন্সের ভিতর পথের মধ্যে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে।  জ্বর হলে, স্বাস কষ্ট হলে কোন হাসপাতাল তাকে ভর্তি করছে না। প্রাইভেট হাসপাতালের আর একটি ঔদ্যত্বপূর্ণ আচরনের কথা না বললে নয়, আনোয়ার খান হাসপাতালের সাথে সরকারের যে চুক্তি হয় তাতে তারা জনগনকে বিনামূল্যে সেবা দেয়ার কথা। কিন্তু তা না করে তারা গোপনে উচ্ছ হারে জনগন থেকে টাকা আদায় করছে। এটা প্রাকাশিত হয়ে গেলে, তারা সরকারের এই চুক্তি থেকে বের হয়ে আসে। সরকার তার বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। যেহেতু এই ব্যবসায়ী রাজনীতিক এক জন এম পি। 

এবার আসি পরিবহন খাতে, সব ব্যবসায়ীর আবদার যখন সরকার রক্ষা করল এখন পরিবহন ব্যবসায়ীরা কি দোষ করল? তাদের দিকেও তো দেখতে হবে, তারাও ত রাজনীতিবিদ, এবার পরিবহন সেক্টরও খুলে দিতে হবে। সরকার তাদের কাছেও নতি স্বীকার করলো, তা আবার ৬০% ভাড়া বৃদ্ধি করে।

যদিও সবার জানা এবার করোনা আরো স্পষ্ট করে দিল, গার্মেন্টস মালিকরা  শ্রমিক বান্ধব নয়, হাসপাতালগুলা রোগী বান্ধন নয়, পরিবহন সেক্টর যাত্রী বান্ধব নয়। ব্যবসায়ীরা ভোক্তা বান্ধব নয়। দেখা গেল কোন সেকৃটরই জন বান্ধব নয়। সবাই স্বার্থ বান্ধব, দূর্নীতি বন্ধব। তাদের লক্ষ্য  যে কোন ভাবে টাকা কামানো আর মুনাফা। এই পাহাড়সম মুনাফার জন্য এই ব্যবসায়ী ররাজনীতিবিদররা  আজ সরকারকে জিম্মি করে রেখেছে। সেই জন্য আজ সরকারকে নতি স্বীকার করে লকডাউন তুলে নিতে হচ্ছে। গার্মেন্টস খুলে দিতে হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতাল গুলোও সরকারের নির্দেশ অমান্য করে স্বাস্থ্য সেবা বন্ধ করে দিলেও সরকার শক্ত অবস্থানে যেতে পারছেনা। সরকারের দূর্বল অবস্থানের কারনে  শুরু হয়েছে এই করোনা কালে সাধারন স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে জনগনের ভোগান্তি। এখন করোনাকালে করোনা সংক্রমিত কোন রোগীকে ত বেসরকারী কোন হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেইনা। করোনা না হলেও এ হাসপাতাল গুলা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করছেনা । আর ভর্তি হতে না পেরে পথে ঘাটে মৃত্যু ঘটছে সাধারন মনুষের। এভাবেই কি চলবে বাংলাদশ? এখন সময় এসেছে সব দল ব্যবসায়ীদের রাজনীতি থেকে তাড়ান, আর  রাজনীতিবিদরা ব্যবসা ছাড়ুন। তাহলে সরকার জনবান্ধব হয়ে দেশ চালাতে পারবে। এই মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতা এবং সিদ্ধান্তহীনতার মূল কারন এইটাই। 

           মোঃ জসীম উদ্দীন, এম এ(চবি,রাজনীতি বিজ্ঞান,)

Tuesday, April 20, 2021

করোনা কালের দূর্ভোগ

 করোনা কালের দূর্ভোগ() 

(গত ২০২০ সালের করোনা কালে লেখা আমার এ লেখাটি আবার আমার ব্লকে প্রকাশ করলাম) 

-------------জসীম উদ্দীন

করোনাকালে আমি বিশেষ কাজ না থাকলে ঘর থেকে বের হইনা। কারন বর্তমানে অামার যে বয়স তা করোনা সংক্রমনের জন্য বিপদজনক বয়স বলা যায়। তবুও বাধ্য হয়ে মাঝে মাঝে বের হতে হয়।  কারন করোনা কালের জন্য আমার তিন চার মাসের বিদ্যুৎ আর গ্যাস বিল বকেয়া পড়ে যায়।  বিদ্যৎ বিল যে কোন ভাবে দেওয়া য়ায়। গ্যাস বিল দিতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাঙ্কে যেতে হয়। আগেও বিল দিয়েছি ব্যাঙ্কে লাইন ধরে। অনেক লম্বা লাইন ব্যাঙ্কের ভিতর। কিন্তু এবার করোনাকালে বিল দিতে গিয়ে দেখি ব্যাঙ্ক সিষ্টেম অনেক পাল্টে গেছে।  করোনা সতর্কতার জন্য ব্যাঙ্কে ঢুকতে জ্বরের পরীক্ষা দিতে হয়, হেন্ড স্যানেটাইজার মাখতে হয়, আর ব্যাঙ্কের ভিতরে নয় বাইরে লাইনে দাঁড়াতে হয়। ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষের এ সতর্কতা ভাল লাগল। কিন্তু বাইরে যে লাইন ব্যাঙ্ক গেইট থেকে রাস্তা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে সে লাইনে মানা হয়না দৈহিক দুরত্ব , মাস্ক পরারও বালাই নেই, পড়লেও মুখের নীচে নামিয়ে রাখে। এসব সুরক্ষার কথা বললে কেউ পরিহাস করে, কেউ খেপে যায়, আবার কেউ বিভিন্ন অজুহাত দেখায়।

       এই রকম পরিবেশে করোনা ভীতি থেকে নিজেকে আমি আদৌ নিরাপদ মনে করতে না পেরে বিল না দিয়ে বাসায় চলে এলাম। তারপরদিন আবার গেলাম, দেখি একিই ভাবে লাইন, আজও ফিরে এলাম, তৃতীয় দিন একটি বুদ্ধি আঁটলাম। ব্যাঙ্ক খোলার এক ঘন্টা আগে গিয়ে ব্যাঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলাম। এক ঘন্টা পর ব্যাঙ্ক খুলল। তারপর সবার আগে বিল জমা দিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম। টেম্পোতে উঠলাম, সেখানেও একিই অবস্থা দৈহিক দূরত্বের বালাই নেই। টেম্পো ওয়ালাকে বললাম টাকা ডবল নিয়েও কেন সীট ভর্তী যাত্রী নিচ্ছ? উত্তর নেই তার।  কি আর করা ভাইরাস আতঙ্ক নিয়ে বাসায় আসি। বাসার এসে দেখি ছাতা ফেলে এসেছি, আবার যেতে হলো ব্যাঙ্কে, ছাতা অবশ্য পাওয়া গেল, তবে চারবার গণ পরিবহনে আসা যাওয়ায় মনে হল করোনা যেন আমাকে ঝাপটে ধরে আছে। তাই তাড়াতাড়ি বাসায় এসে বাথরুমে ঢুকে গোসল করে ফেললাম। ব্যবহূত কাপড় চোপড় ধূয়ে ফেললাম। জানিনা করোনা কালের দূর্ভোগ কখন যাবে। মানুষ আগের মত আবার সাচ্ছন্দ জীবন য়াপন করবে।

-------------------------------

করোনা চলে যাক

 করোনার ভয় করোনার ভাবনা

-----------জসীম উদ্দীন

২৬/০৬/২০

এমন এক মহামারী আমাদের জীবনকে পেয়ে বসেছে, জীবনের সবকিছুতে সে প্রভাব ফেলছে। ঘর থেকে দু পা দূরকেও বহুদূর মনে হয়। কেননা মাস্ক ছাড়া, সুরক্ষা ছাড়া দু পা'ও এগুতেও ভয় লাগে। যদি করোনা পেয়ে বসে! তাই ঘরকে বেছে নিতে হয় নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে। কিন্তু সারাদিন ঘরে বসে থাকা কি সম্ভব? মাঝে মাঝে অনিচ্ছা সত্বেও বের হতে হয়। গণ পরিবহনে চড়তে হয়। বাজারে যেতে হয়। কিন্তু বাইরে গেলে দেখি মানুষে মানুষে সেই আবেগ সেই অনুভূতির প্রকাশে দারুন এক পরিবর্তন এসেছে। এক মানুষ যেন আর এক মানুষের শত্রু, কেউ কারো কাছে ঘেষতে চাইনা। কেউ কারো হাত গা স্পর্শ করতে চাইনা। যদি করোনা লেগে যায়। করোনা আক্রান্ত মাকে জঙ্গলে ফেলে চলে যাচ্ছে ছেলে, করোনা আক্রান্ত বাবাকে মুরগী ফার্মে ফেলে রেখে অবহেলায় মেরে ফেলছে। ছেলে মেয়ে মা বাবার মৃত দেহ দেখতে চাইনা, এমন কি দাফন কাফন কোথায় হচ্ছে তারও খোঁজ রাখতে চাইনা। জানিনা করোনা মহামারী কখন যাবে, কখন আবার সেই আগের দিনে ফিরে আসব। আদৌ ফিরে আসতে পারব কিনা। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুক, করোনা এ পৃথিবী থেকে চলে যাক। সবাই হাসি খুশীতে থাকুক। এ কামনাই করছি। 

Monday, April 19, 2021

ভাল থেকে সুমী

 ভাল থেকো সুমী

--------------জসীম উদ্দীন

২৭/৩/২১তাং

হৃদয়ের শুস্ক নদীতে, বারিধারা মেঘের বজ্রধ্বনী 

ঝলকাতে পারলেনা তুমি, 

পারলেনা বালুচরে সাগরের ঢেউ হয়ে

সফেন ভালবাসার জলরাশি হতে।

মেঠো পথের পথিকের মত পারলেনা 

জীবনের খানিকটা সময় পার করে দিতে

আমার জীবনের আলোহীন পথে। 

তোমার জন্য রোদেলা সকালের কুয়াশা মাখা ফুল

নাইবা পারলাম আনতে,

তবে বসন্তের কৃষ্ণচূড়া ফুটিয়ে রেখেছিলাম 

সবুজ পাতার মায়াবী সমারোহে।

জোড় শালিকের গভীর ভালবাসায়

জড়িয়ে নিতে চেয়েছিলাম তোমাকে আমার নিশ্চিদ্র হৃদয়ে,

তুমি কিছুই করতে দিলেনা সূমী।

 

ভেনিস শহরের পর্যটকের মত পথ জলপথে 

ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে চেয়েছিলাম 

তোমার হৃদয় নামক ঐতিহাসিক শহরে নোঙ্গর ফেলতে,

তুমি ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাবলে 

আমার সাথে জড়িয়ে লাভ নেই এই বৈষয়িক পৃথিবীতে। 

তুমি বেশ বুদ্ধিমান, 

আমার মত অপাংতেয় কীটের কবলে পরে 

জীবনটা ব্যর্থ করতে চাওনি,

ভাল থেকো সুমী, ভাল থেকো।

------------------------------------ 

দাদু মনি আনাবিয়া

 1

(আমার আট নয় মাসের ছোট্ট প্রিয় দাদুমনি আনাবিয়াকে নিয়ে আমার এই ছড়া কবিতাটি)

আমার দাদুমনি, 

ছোট্ট আানাবিয়া

বসা থেকে হাঁটে এখন 

হামা গুড়ি দিয়া।

ছোট্ট একটি দাঁত উঠেছে 

কচি মাড়ী ফুঁড়ে 

মুখের ভিতর হাত রাখলে

দেয় কামড়ে ছিঁড়ে।

দাদা দাদা ডাকে সদা 

ভাঙ্গা ভাঙ্গা বোলে

বাপকে দেখলে থাকেনা সে

অন্য কারো কোলে। 

বাবার সাথে ঘুরে বেড়ায়

হোন্ডা করে করে,

এদিক ওদিক সব খানে

মামা ফুফার ঘরে। 

পোষা মোদের বিড়াল ছানা

আসলে তাহার কাছে, 

ধরে রাখা যায়না তাকে 

পা দুলিয়ে নাচে। 

মুখে মুখে আওয়াজ করে

হোন্ডা চলার মত,

হাত দিয়ে রেইস তুলে

দক্ষ যেন কত! 

এমন করে হেসে খেলে

ছোট্ট দাদু মনি, 

আনন্দেতে ভরিয়ে রাখে

সারা ঘরখানি। 

-------------------- 

Saturday, April 17, 2021

করোনার নাই করুনা


হে প্রভূ করোনার থাবা থেকে আমাদের রক্ষা করুন
---------------------জসীম উদ্দীন 
১৬/০৪/২১
রমজানের ঈদ, মানুষের মনে আতঙ্ক করোনাকে নিয়ে, ইদানিং করোনা আবার তার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে তান্ডব শুরু করেছে বাংলাদেশে। সরকার  লকডাউনের ঘোষনা দিয়েছে। মানুষ কিন্তু ততটা সিরিয়াস না। তবে মৃত্যুর সংখ্যা যখন প্রায় শত ছুঁই ছুঁই,  তখন বেশীর ভাগ মানুষের মধ্যে মৃত্যু ভয় বাড়ছে। তাই এই কয়দিন মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবনতা আগের চাইতে বেড়েছে। জানিনা এই করোনা মহামারী আর কতদিন আমাদের ভোগাবে। আমাদের জীবন জীবিকাকে বাধাগ্রস্ত করবে। মনে হয় করোনার সাথে আমাদের বেশ কয়বছর বসবাস করতে হবে। করোনা আমাদের করুনা কর। আমরা আর পারছিনা। বন্দী জীবন নিয়ে দিন কাটাতে কাটাতে আমাদের নাভিস্বাস উঠেছে। হে প্রভূ আমাদের রক্ষা কর কবোনার থাবা থেকে। তুমিই পার করোনার থাবা থেকে রক্ষা করতে। এই রমজানে এটাই আমাদের প্রার্থনা।

মামুনুল হক ও আলেম সমাজ

 মামুনুল হকের কর্মকান্ড ও আলেম সমাজের ভূমিকা

-----------------জসীমউদ্দিন 

১২/০৪/২১

কয়দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোড়পাল শুরু হয়েছে হেফাজত নেতা মানুনুল হককে নিয়ে। এরকম তোড়পাল হওয়া স্বাভাবিক। তিনি অন্য সাধারণ মানুষের মত মানুষ নন। তিনি একটি ধর্মীয় গোষ্ঠির নেতা। তার অনেক অনুশারী। এই গোষ্ঠীর সমর্থকরা তার কথায় জীবন দিতেও পিঁছ পা হননা। এমনি একজন ধর্মীয় নেতার আচার আচরন হবে অনুকরনীয়। তিনি মানুষকে যা হেদায়েত করবেন, তা তাকে আগে নিজের জীবনে প্রতিফলিত করবেন। কিন্তু একি করলেন মামুন সাহেব? তিনি যা করলেন তা কি ইসলাম সম্মত? একজন নারীকে স্বামী থেকে বিচ্ছেদের পর (তার নিজের কথা মত) তার নিজের অভিভাবকত্বে নিলেন। যদিও নারীর বাবা মা দুজনেই এখনো জীবিত। তারপর তাকে বিয়ে করলেন। তাও সে নারীর মা বাবা এমন কি মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রীও জানেননা। এগুলা কি ইসলাম অনুমোদন করে? যদি না করে তা হলে মামুনুল হক লাইভে এসে ইসলামের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে শুধু ইসলামের অবমাননাই করছেন তা নয়, ইসলামের অনুসারীদের কাছেও ভূল মেসেজ দিচ্ছেন। এখন আলেম সমাজের উচিত তাঁরা নির্মোহ ভাবে এব্যপারে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যাটা দিয়ে ইসলামের উপকার করবেন। এখন আলেম সমাজ কোনটা নেবেন, মূর্তি স্থাপনের ব্যাপারে যেভাবে সোচ্ছার হয়ে ছিলেন সেভাবে সোচ্ছার হবেন, নাকি মামুনুলকে বাঁচাতে ইসলামের ভূল ব্যাখ্যা দিবেন। আপনারা নিশ্চয় জানেন আল্লাহ ইসলামের ভূল ব্যাখ্যাকারীদের জন্য কি শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। 

------------------------------------------

একটি কবিতা

হে ঝরা পাতা

-------------জসীম উদ্দীন

১২/০৪/২১

হে ঝরা পাতা

এত দিন তুমি বৃক্ষের দেহে যুগিয়েছ সঞ্জিবনী সূধা

মাতাল হাওয়ায় বৃক্ষের ডালে ডালে দিয়েছ উচ্ছলতা।


ফাগুনের আনন্দ দিনে, 

বাগানে বাগানে আবেগের ক্ষণে 

তুমি কেন ঝরে পর, 

ঝরা পাতা।


তুমি সবুজের রঙে হেসেছ নিজে 

সাজিয়ে ধূষর ধরা,

তুমি কেন আজ মৃত হয়ে পড়ে আছ ধূলায়

বিশ্ব করিয়া খরা।

বলনা না হে ঝরা পাতা

তোমার কি ব্যথা?

-----------------------

একটি ছড়া

 পাগলা কাকা ( কবিতার পটভূমিঃ- এই ছড়া কবিতাটি মানসিক প্রতিবন্ধী  আমার এক দূর সম্পর্কীয় মরহুম কাকাকে নিয়ে, যিনি বেশ সম্পদশালী মানুষের সন্তান ছ...