করোনা কালের দূর্ভোগ()
(গত ২০২০ সালের করোনা কালে লেখা আমার এ লেখাটি আবার আমার ব্লকে প্রকাশ করলাম)
-------------জসীম উদ্দীন
করোনাকালে আমি বিশেষ কাজ না থাকলে ঘর থেকে বের হইনা। কারন বর্তমানে অামার যে বয়স তা করোনা সংক্রমনের জন্য বিপদজনক বয়স বলা যায়। তবুও বাধ্য হয়ে মাঝে মাঝে বের হতে হয়। কারন করোনা কালের জন্য আমার তিন চার মাসের বিদ্যুৎ আর গ্যাস বিল বকেয়া পড়ে যায়। বিদ্যৎ বিল যে কোন ভাবে দেওয়া য়ায়। গ্যাস বিল দিতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাঙ্কে যেতে হয়। আগেও বিল দিয়েছি ব্যাঙ্কে লাইন ধরে। অনেক লম্বা লাইন ব্যাঙ্কের ভিতর। কিন্তু এবার করোনাকালে বিল দিতে গিয়ে দেখি ব্যাঙ্ক সিষ্টেম অনেক পাল্টে গেছে। করোনা সতর্কতার জন্য ব্যাঙ্কে ঢুকতে জ্বরের পরীক্ষা দিতে হয়, হেন্ড স্যানেটাইজার মাখতে হয়, আর ব্যাঙ্কের ভিতরে নয় বাইরে লাইনে দাঁড়াতে হয়। ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষের এ সতর্কতা ভাল লাগল। কিন্তু বাইরে যে লাইন ব্যাঙ্ক গেইট থেকে রাস্তা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে সে লাইনে মানা হয়না দৈহিক দুরত্ব , মাস্ক পরারও বালাই নেই, পড়লেও মুখের নীচে নামিয়ে রাখে। এসব সুরক্ষার কথা বললে কেউ পরিহাস করে, কেউ খেপে যায়, আবার কেউ বিভিন্ন অজুহাত দেখায়।
এই রকম পরিবেশে করোনা ভীতি থেকে নিজেকে আমি আদৌ নিরাপদ মনে করতে না পেরে বিল না দিয়ে বাসায় চলে এলাম। তারপরদিন আবার গেলাম, দেখি একিই ভাবে লাইন, আজও ফিরে এলাম, তৃতীয় দিন একটি বুদ্ধি আঁটলাম। ব্যাঙ্ক খোলার এক ঘন্টা আগে গিয়ে ব্যাঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলাম। এক ঘন্টা পর ব্যাঙ্ক খুলল। তারপর সবার আগে বিল জমা দিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম। টেম্পোতে উঠলাম, সেখানেও একিই অবস্থা দৈহিক দূরত্বের বালাই নেই। টেম্পো ওয়ালাকে বললাম টাকা ডবল নিয়েও কেন সীট ভর্তী যাত্রী নিচ্ছ? উত্তর নেই তার। কি আর করা ভাইরাস আতঙ্ক নিয়ে বাসায় আসি। বাসার এসে দেখি ছাতা ফেলে এসেছি, আবার যেতে হলো ব্যাঙ্কে, ছাতা অবশ্য পাওয়া গেল, তবে চারবার গণ পরিবহনে আসা যাওয়ায় মনে হল করোনা যেন আমাকে ঝাপটে ধরে আছে। তাই তাড়াতাড়ি বাসায় এসে বাথরুমে ঢুকে গোসল করে ফেললাম। ব্যবহূত কাপড় চোপড় ধূয়ে ফেললাম। জানিনা করোনা কালের দূর্ভোগ কখন যাবে। মানুষ আগের মত আবার সাচ্ছন্দ জীবন য়াপন করবে।
-------------------------------
No comments:
Post a Comment