Tuesday, May 25, 2021

একটি ছড়া

 পাগলা কাকা

( কবিতার পটভূমিঃ- এই ছড়া কবিতাটি মানসিক প্রতিবন্ধী  আমার এক দূর সম্পর্কীয় মরহুম কাকাকে নিয়ে, যিনি বেশ সম্পদশালী মানুষের সন্তান ছিলেন, কিন্তু সমাজের স্বার্থপর মানুষেরা তার দুর্বলতার সু্যোগ নিয়ে তাকে করেছে সর্বহারা, আমি তার জীবনের কিছু বিচিত্র চিত্র নিয়ে অনেক দিন আগে এই ছড়া কবিতাটি রচনা করি। আজ প্রকাশ করলাম।) 

-------------জসীম উদ্দীন

এক ছিল মোর পাগলা কাকা,

সে ছিল খুবই বোকা 

সবাই তাকে দিত ধোঁকা

বুড়ো থেকে ছোট্ট খোকা।


পাগলা কাকা এতই বোকা

আজীবনে হয়নি শেখা

চার শিখিতে একটা টাকা।


পাগলা কাকা এতই বোকা

দুষ্ট লোকের খেয়ে ধোঁকা

সব হারাল জায়গা জমিন

তাই তো সে আজ নিঃস্ব একা। 


শুনলে সেসব ইতিকথা

সবার মনে জাগবে ব্যথা

তবুও সবার হাসি পাবে

যদিও তা ব্যথার কথা।


কলা নিয়ে জমিন বেচা

করিবে কোন অবুঝ বাচা

তা করেছে আমার চাচা

বুদ্ধিতে সে এতই কাঁচা। 


বুদ্ধিতে সে এতই বোকা

যদি বলি পাগলা কাকা

গুরুস্থানে পারবে তুমি

রাড কাটাতে একা একা? 

অমনিতে সে গর্বভরে

রাতটা দিত সাবাড় করে

গুরুস্থানে চুপটি মেরে।


বোকামীতে এতই পাকা

যদি বলি পাগলা কাকা

নাই তোমারি বুকের পাটা

মাঘের শীতে গভীর রাতে

একা একা সাঁতার কাটা।


জামা চাদর অমনি খুলে

লাফ মারিত শীতের জলে

সাঁতার কেটে ডাঙ্গায় এলে

শীতের জলে কাঁপছে দুলে।


বাজারে সে বস্তা টানে

খুশী হয়ে আপন মনে

কম ওজনের বস্তা হলে

রাগত স্বরে উঠে বলে

কম ওজনের বস্তা টানা

বীর পুরুষের কেমনে মানে? 


পাগলা কাকা বস্তা টেনে

কেবল শুধু পয়সা চেনে

টাকা দিলে ছুঁড়ে ফেলে

চোখ দুটিতে রক্ত তোলে।


টাকার বদল একশ পায়

যদি সে তার হাতে পাই

মনে করে তার মত লক্ষপতি

এই দুনিয়ায় কেহ নাই।


পাগলা কাকা খেত ভাত

শেষ করিতে গভীর রাত

চার থালা ভাত পেটে ফেলে

বলত কাকা কোথায় গেলে!

ভাত দিয়ে যাও জলদী করে

নইলে আমি যাচ্ছি চলে।


পাগলা কাকার কাল বউ

নামটি তাহার জানতনা কেউ

"অাঞ্জু" নামে দিলে ডাক

উঠত কাকার ভিষম রাগ।


পাগলা কাকা ভিষম রেগে

পা' টা  দিল বউএর ভেঙ্গে।

সে রাতে বউ পালিয়ে গেল

কাকার মাথায় হাত পরিল। 


এমনি করে জীবনখানা 

কাটিয়ে দিল পাগলা কাকা,

অবশেষে শেষ বয়সে 

মারা গেল সঙ্গিবিহীন একা একা। 

--------------------------

Monday, May 17, 2021

বিদ্যুৎতের অদ্ভুত কান্ড

 বিদ্যুতের অদ্ভুত কান্ড

------------------জসীম উদ্দীন

(সাম্প্রতিক রোজার সময় বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের প্রতিবাদে আমার এই প্যরোডী কবিতাটি নিবেদন করলাম। আশা করি তাদের কাছে যাবে, আমরাও ভোগান্তি থেকে বাঁচব)

তাং--০৮/০৪/২১

------------------

আমাদের দেশে বিদ্যুত মশায় সবসময় অদ্ভুত সব কান্ড করে, 

সে তার ইচ্ছেমত চলে, 

কখন সে আসবে আবার কখন সে যাবে, তা তার একান্ত নিজের ইচ্ছা, 

মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা যায় ভূলে।


রাতে যখন টেবিলে বসে বউ বাচ্ছা নিয়ে খেতে বসবেন 

সে হঠাৎ চম্পট দেবে,

জানিনা সে কোথায় যায়, কি করে,

বিদ্যুতের মাদকাশক্তি আছে কিনা জানতে ইচ্ছে করে ! 


প্রছন্ড গরম তুমি রাতে ফ্যান চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছ 

দেখবে বিদ্যুৎ মশায় তার দায়িত্ব ছেড়ে চলে গেছে, 

জানিনা তার গাঁজা নাকি ভাং, কিসের অভ্যাস আছে।


আপনি গভীর ঘুমে অচেতন, 

হঠাৎ ঘর্মাক্ত দেহে ঘুম থেতে জেগে এপাশ ওপাশ করছেন বিছানায়,

চোখ খুলে দেখলেন বিদ্যুৎ মশায় গেছে পালায়। 

ইচ্ছে হলে হঠাৎ আবার আসে, আসার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে যখন চোখ দুটি মুদে আসে,

দেখবেন বিদ্যুতহীনতার গ্যাড়াকলে পড়ে আবার গেছেন ফেঁসে,

বিদ্যুৎ মশায় আবার পালিয়ে গিয়ে, অন্ধকারে যায় মিশে।


এতো গেল রাতের খবর, 

এবার আসি দিনে, 

সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন নামাজ পড়তে যাবেন 

তখন দেখবেন ঘরে লাইট জ্বলছেনা, ওজু করতে যাবেন টাঙ্কীতে পানি শেষ,

দূপুরে গোসল করতে যাবেন?  আলো নেই বাথরূমে , 

এইভাবে দাশিত্বহীন বিদ্যুৎ বিভাগ চলে ঘুমে ঘুমে। 


এবার আসুন, রোজা রমজানের দিনে, 

সারা দিন রোজা রেখে আপনি যখন ইফতারের টেবিলে 

বিদ্যুৎ মশাাইর তখন একটুও ভাল লাগেনা, 

তাই চলে যায়, কাউকে কিছু নাবলে। 

কে জানে সে ফেনসিডিল না ইয়াবা খায়

যখন রাতে সেহরী খাবেন, তখনও দেখবেন তার মাদকাসক্তি বেড়ে যায়,

বিদ্যুৎ মশায় তোমার যা ইচ্ছে কর, তবুও তোমাকে বলি ধন্য ধন্য

তুমি অনন্য তুমি অনন্য।  


তুমি কাজের বেলায় টুঁ টুঁ, ,

টাকার বেলায় বত্রিশ আনা দায়িত্ববান, 

বিদ্যুৎ ব্যবহার নাকরলেও, লক্ষ টাকার ভূতুরে বিল আমাদের জন্য পাঠান।

না দিলে আরো কড়া, 

থানা পুলিশ আর মামলা করে পড়াবে হাত কড়া। 

যত লাগামছাড়া, দায়বদ্ধতাহীনভাবে চলুক বিদ্যুৎ বিভাগ, যাবেনা কিছু বলা,

বিদ্যুৎ বিভাগ যেন গ্রাহকের মুনিব, আর গ্রাহকরা তার কামলা। 

এইভাবে চলে আমাদের বিঢ়ুৎ বিভাগ, জবাবদিহিহীন তার কারবার, 

মানুষের ভূগান্তি যতই বাড়ুক, সময় নেই বড়কর্তাদের এসব দেখবার।

------------------------------------------------------

স্বপ্নালু বৃষ্টি ও আমি

 স্বপ্নালু বৃষ্টি ও আমি()

-------------জসীম উদ্দীন

১০/০৭/২০

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম আদূরে বৃষ্টি খেলা করছে পাশের সবুজ বন তল জুড়ে। টুপ টাপ গানের শব্দে সবুজ পাতা বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে প্রকৃতিকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলছে। আর আকাশের রাজ্যে মেঘ কন্যা ভেসে বেড়াচ্ছে স্বপ্নজালে বন্দী হয়ে। আমার মন চাইছিল তাদের সাথে দেহ মন দুটোকে ভিজয়ে নিতে। তাই আবেগে হারিয়ে গিয়ে  মনটাকে নিয়ে উড়াল দিলাম বৃষ্টি কন্যার কাছে। 

জিজ্ঞেস করলাম, তুমি স্বপ্নময়তার মাতাল হাওয়ার ভেসে বেড়াচ্ছ, আমাকে সাথে নেবে?

সে বলল, "তুমি মর্ত্যের মানব তুমি মর্তেই থাক, তোমাদের জন্য মর্তের সুন্দরী বৃষ্টি ত আছে"। 

এবার আমি বিজলী পাখায় চড়ে আবার চলে এলাম আমার পাশে সবুজ বনতলের সেই বৃষ্টি বালিকার কাছে, ভেজা বনের সবুজতায়। বৃষ্টি আমাকে আদরে সোহাগে ভিজিয়ে দিল তার ভালবাসার সঞ্জিবনী সূধায়। আমি বৃষ্টির সঞ্জিবনী সূধায় সিক্ত হয়ে আপ্লুত হয়ে গেলাম। বৃষ্টিকে মনে হল আমার মনের কোণে বাস করা সেই প্রেয়সী।

যখন বৃষ্টি থেমে গিয়ে তার ছন্দিত নুপূর বন্ধ করে দিল আমি স্বপ্নালোক ছেড়ে পৃথিবীর রূঢ় বাস্তবতায় ফিরে আসি। আতঙ্কে ভাবতে থাকি করোনা এসে চড়াও হচ্ছে নাতো!!

---------------------

Monday, May 3, 2021

জীবনের কিছু প্রশ্ন

 জীবনের কিছু প্রশ্ন

০৫/০৩/১৮

-------জসীম উদ্দীন

আমাদের জন্ম থেকে শুরু যে অস্তিত্বের তার কোন শেষ নেই। এই অস্তিত্বকে কিছু দিনের জন্য পৃথিবী নামক আবাসে সচল রাখা হয়। তখন সে নড়ে চড়ে, চিন্তা করে, হর্ষ বেদনা, মায়া মমতা অনুভব করে। এ অস্তিত্ব জুটি বেঁধে বংশ বিস্তার করে। একটি নির্দিষ্ট সময় পার হলে সে আবার  দেহ নিয়ে মাটিতে মিশে যায়। আর তার প্রাণ পাখি আত্মা হয়ে উড়ে যায় পরমাত্মার কাছে, যে পরমাত্বা সব আত্মার সৃষ্টিকর্তা।

আমারা আমাদের দেহটাকে কত যত্ন করি, দামী প্রসাধনী দিয়ে তার পরিচর্যা করি, কত দামী পোষাক দিয়ে ঢেকে রাখি । আমরা কি ভেবে দেখেছি এ দেহের এত রূপ, এত অহংকার, এত বিলাসিতা, এত দাপট, সব কিছু পঞ্চাশ ষাট শত্তুর অথবা বড় জোড় একশত বৎসর পর্যন্ত। তারপর সব অহংকার মাঠির দূলায় মিশে বিলীন হয়ে যায় । হাজার হাজার বছর মাটির তলায় নির্জীব নিস্তেজ বিলীন অস্তিত্ব হয়ে পড়ে থাকে।

এ লক্ষ কৌটি বছরের পথ চলায় এই অতি ক্ষুদ্র সময়ের জন্য মানুষ কিভাবে এই পৃথিবীতে আসল ? কেন আসল?   এর যেমন ধর্মীয় ব্যখ্যা আছে, তেমনি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। তবে ধর্ম ও বিজ্ঞান নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা আছে কিনা আমার জানা নেই। আমরা কেউ ধর্মকে বিশ্বাস করি কেউ বিজ্ঞানকে। আমরা কেউ কেউ ধর্ম ও বিজ্ঞান এ দুয়ের হাত ধরা ধরি করে চলি।  ধর্মে যেমন বিশ্বাস আর উচ্ছাসের প্রাধান্য বেশী তেমনি বিজ্ঞানের কার্যকরন ও যুক্তিবাদীতার প্রাধান্য ও নির্ভরশীলতা বেশী। কিন্তু এসব ব্যাখ্যা সকল অস্তির মনের জানার আগ্রহে সবটুকু সস্তিরতা দিতে পারছে  এবং ভবিষ্যতে পারবে তা হলফ করে বলা মুশকিল। 

বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কালের পরিক্রমায় প্রায়সময় পরিবর্তিত হয়। আবার ধর্মের ব্যাখ্যা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারনে মেনে নিতে হয়। এ দুয়ের মেল বন্ধন ঘটিয়ে এসকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেশীর ভাগ  মানুষ। --------

যাই হউক আমরা এ পৃথিবী নামক গ্রহেই সৃষ্টি। এ বিশাল বিশ্ব ধরায় আমরা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, আর এ বিশ্বে আমাদের ক্ষনিকের অবস্থানের মূল উদ্দশ্য আমরা বুদ্ধি বৃত্তিক মানুষ  আজীবন খুঁজে বেড়াচ্ছি। এরূপ প্রশ্ন হাজার বছর ধরে কৌতুহলী মানুষ খুঁজে বেড়াবে। কিন্তু সর্বজন গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যা কোনদিন সম্ভব হবে কিনা আগামীই বলতে পারে। তবে আজকের সজীব প্রাণপূর্ণ চঞ্চল বুদ্ধি বৃত্তিক মানুষ কি করে মাটির নীচে অনাদীকাল পর্যন্ত নির্জীব নিস্পাণ জড় হয়ে পড়ে থাকবে?  একথা ভেবে সব সময় একটা দুঃখবোধ  নিজের মধ্যে তাড়া করে ফিরে।

-----------------------------------------------

একটি ছড়া

 পাগলা কাকা ( কবিতার পটভূমিঃ- এই ছড়া কবিতাটি মানসিক প্রতিবন্ধী  আমার এক দূর সম্পর্কীয় মরহুম কাকাকে নিয়ে, যিনি বেশ সম্পদশালী মানুষের সন্তান ছ...