পাগলা কাকা
( কবিতার পটভূমিঃ- এই ছড়া কবিতাটি মানসিক প্রতিবন্ধী আমার এক দূর সম্পর্কীয় মরহুম কাকাকে নিয়ে, যিনি বেশ সম্পদশালী মানুষের সন্তান ছিলেন, কিন্তু সমাজের স্বার্থপর মানুষেরা তার দুর্বলতার সু্যোগ নিয়ে তাকে করেছে সর্বহারা, আমি তার জীবনের কিছু বিচিত্র চিত্র নিয়ে অনেক দিন আগে এই ছড়া কবিতাটি রচনা করি। আজ প্রকাশ করলাম।)
-------------জসীম উদ্দীন
এক ছিল মোর পাগলা কাকা,
সে ছিল খুবই বোকা
সবাই তাকে দিত ধোঁকা
বুড়ো থেকে ছোট্ট খোকা।
পাগলা কাকা এতই বোকা
আজীবনে হয়নি শেখা
চার শিখিতে একটা টাকা।
পাগলা কাকা এতই বোকা
দুষ্ট লোকের খেয়ে ধোঁকা
সব হারাল জায়গা জমিন
তাই তো সে আজ নিঃস্ব একা।
শুনলে সেসব ইতিকথা
সবার মনে জাগবে ব্যথা
তবুও সবার হাসি পাবে
যদিও তা ব্যথার কথা।
কলা নিয়ে জমিন বেচা
করিবে কোন অবুঝ বাচা
তা করেছে আমার চাচা
বুদ্ধিতে সে এতই কাঁচা।
বুদ্ধিতে সে এতই বোকা
যদি বলি পাগলা কাকা
গুরুস্থানে পারবে তুমি
রাড কাটাতে একা একা?
অমনিতে সে গর্বভরে
রাতটা দিত সাবাড় করে
গুরুস্থানে চুপটি মেরে।
বোকামীতে এতই পাকা
যদি বলি পাগলা কাকা
নাই তোমারি বুকের পাটা
মাঘের শীতে গভীর রাতে
একা একা সাঁতার কাটা।
জামা চাদর অমনি খুলে
লাফ মারিত শীতের জলে
সাঁতার কেটে ডাঙ্গায় এলে
শীতের জলে কাঁপছে দুলে।
বাজারে সে বস্তা টানে
খুশী হয়ে আপন মনে
কম ওজনের বস্তা হলে
রাগত স্বরে উঠে বলে
কম ওজনের বস্তা টানা
বীর পুরুষের কেমনে মানে?
পাগলা কাকা বস্তা টেনে
কেবল শুধু পয়সা চেনে
টাকা দিলে ছুঁড়ে ফেলে
চোখ দুটিতে রক্ত তোলে।
টাকার বদল একশ পায়
যদি সে তার হাতে পাই
মনে করে তার মত লক্ষপতি
এই দুনিয়ায় কেহ নাই।
পাগলা কাকা খেত ভাত
শেষ করিতে গভীর রাত
চার থালা ভাত পেটে ফেলে
বলত কাকা কোথায় গেলে!
ভাত দিয়ে যাও জলদী করে
নইলে আমি যাচ্ছি চলে।
পাগলা কাকার কাল বউ
নামটি তাহার জানতনা কেউ
"অাঞ্জু" নামে দিলে ডাক
উঠত কাকার ভিষম রাগ।
পাগলা কাকা ভিষম রেগে
পা' টা দিল বউএর ভেঙ্গে।
সে রাতে বউ পালিয়ে গেল
কাকার মাথায় হাত পরিল।
এমনি করে জীবনখানা
কাটিয়ে দিল পাগলা কাকা,
অবশেষে শেষ বয়সে
মারা গেল সঙ্গিবিহীন একা একা।
--------------------------