দেহ ও মন(প্রবন্ধ)()
--------জসীম উদ্দীন
তাং-২৫/১০/১৮
মানুষের দেহকে এক জড় পিন্ড বলা যেত যদি তার কোন অনুভূতি না থাকত, কিন্তু অনুভূতি আছে বলে তাকে জড় পদার্থের অভিধায় অভিহিত করা যায়না, কারন সে সুখ দুখ বুঝে, তবে এপর্যন্তই। দেহের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই যে নিজের ইচ্ছায় চলবে, কিন্তু মানুষের দেহের ভিতর বাস করে যে মন সেই তাকে চালনা করে, তার অসম্ভব ক্ষমতা, এমন বিশাল দেহী বুদ্ধিমান মানুষ এ অসম্ভব কর্মক্ষমতার অধিকারী নিজের মনের নির্দেশের বাইরে এক চুলও নড় চড়া করতে পারে না। তার নির্দেশেই চলে দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ।
মন নামের এই অদৃশ্য অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী বায়বীয় অস্তিত্বকে মনে হবে আপনার নিয়ন্ত্রনাধীন কিন্তু আপনি নিজের মনকে নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন তাকে কতটুকু আপনার ইচ্ছার কাছে বশীভূত করে রাখতে পারছেন। আমি আমার নিজের উপলব্দী থেকে বলতে পারি মন নামের অদৃশ্য উপলব্দিটাকে সব সময় আমার নিয়ন্ত্রনে রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করি কিন্তু পারিনা। কোন কাজ করতে গেলে মনকে স্তির রেখে করা আমার জন্য দুঃসাধ্য ব্যপার। আমি যখন একাগ্র মনে কাজ করতে যায় জানিনা কোন অজান্তে মনটা আমাকে ফাঁকি দিয়ে অন্যদিকে অন্যদিকে মনোযোগি করে তোলে আমাকে। সেটা সবকিছুতেই ঘটে, এমনকি জাগতিক কাজ ছাড়া পভূর নিকট পরজাগতিক প্রার্থনা করতে গেলেও এমনটা ঘটে। বরং আআরো বেশী করে ঘটে। আমি যখন নামাজের নিয়ত করে একাগ্র চিত্তে নামাজ পড়ি তখন মন কোন অলক্ষে অন্য আর এক চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আবার সম্বিত ফিরে এলে দেখি মন নামাজে একাগ্রচিত্ত না হয়ে অপ্রয়োজনীয় চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছে। এটা ধর্মীয় দৃষ্টি কোণ থেকে বললে বলতে হবে শয়তানের কাজ। শয়তান আল্লার কাছ থেকে দূরে রাখবার জন্য বান্দার মনের উপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে। আমরা আবার বলতে পারি শয়তানের কাজ হল মন্দ কাজে প্ররোচিত করা, আর ভাল কাজ থেকে মানুষকে দূরে রাখা। কিন্তু দেখা যায় অনেক সময় অনেক ভাল চিন্তাও এ অবাধ্য মন থেকে উৎসারিত হয়। তখন তো তাকে আর শয়তানের কাজ বলে অাখ্যায়িত করতে পারিনা। তাই বলি 'দেহ' 'মন' যতদিন প্রাণ আছে ততদিন জড়াজড়ি করে থাকবে। তবে একথা সত্য যে এই অস্তিত্বহীন বায়বীয় মনকে কোন দিন দেহ নামক অস্তিত্ব নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবেনা। এই লাঘামহীন পাগলা ঘোড়া নিজের ইচ্ছা মত সোয়ারীকে দাবড়ীয়ে বেড়াবে।
----------------------------------
No comments:
Post a Comment