Monday, May 3, 2021

জীবনের কিছু প্রশ্ন

 জীবনের কিছু প্রশ্ন

০৫/০৩/১৮

-------জসীম উদ্দীন

আমাদের জন্ম থেকে শুরু যে অস্তিত্বের তার কোন শেষ নেই। এই অস্তিত্বকে কিছু দিনের জন্য পৃথিবী নামক আবাসে সচল রাখা হয়। তখন সে নড়ে চড়ে, চিন্তা করে, হর্ষ বেদনা, মায়া মমতা অনুভব করে। এ অস্তিত্ব জুটি বেঁধে বংশ বিস্তার করে। একটি নির্দিষ্ট সময় পার হলে সে আবার  দেহ নিয়ে মাটিতে মিশে যায়। আর তার প্রাণ পাখি আত্মা হয়ে উড়ে যায় পরমাত্মার কাছে, যে পরমাত্বা সব আত্মার সৃষ্টিকর্তা।

আমারা আমাদের দেহটাকে কত যত্ন করি, দামী প্রসাধনী দিয়ে তার পরিচর্যা করি, কত দামী পোষাক দিয়ে ঢেকে রাখি । আমরা কি ভেবে দেখেছি এ দেহের এত রূপ, এত অহংকার, এত বিলাসিতা, এত দাপট, সব কিছু পঞ্চাশ ষাট শত্তুর অথবা বড় জোড় একশত বৎসর পর্যন্ত। তারপর সব অহংকার মাঠির দূলায় মিশে বিলীন হয়ে যায় । হাজার হাজার বছর মাটির তলায় নির্জীব নিস্তেজ বিলীন অস্তিত্ব হয়ে পড়ে থাকে।

এ লক্ষ কৌটি বছরের পথ চলায় এই অতি ক্ষুদ্র সময়ের জন্য মানুষ কিভাবে এই পৃথিবীতে আসল ? কেন আসল?   এর যেমন ধর্মীয় ব্যখ্যা আছে, তেমনি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। তবে ধর্ম ও বিজ্ঞান নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা আছে কিনা আমার জানা নেই। আমরা কেউ ধর্মকে বিশ্বাস করি কেউ বিজ্ঞানকে। আমরা কেউ কেউ ধর্ম ও বিজ্ঞান এ দুয়ের হাত ধরা ধরি করে চলি।  ধর্মে যেমন বিশ্বাস আর উচ্ছাসের প্রাধান্য বেশী তেমনি বিজ্ঞানের কার্যকরন ও যুক্তিবাদীতার প্রাধান্য ও নির্ভরশীলতা বেশী। কিন্তু এসব ব্যাখ্যা সকল অস্তির মনের জানার আগ্রহে সবটুকু সস্তিরতা দিতে পারছে  এবং ভবিষ্যতে পারবে তা হলফ করে বলা মুশকিল। 

বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কালের পরিক্রমায় প্রায়সময় পরিবর্তিত হয়। আবার ধর্মের ব্যাখ্যা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারনে মেনে নিতে হয়। এ দুয়ের মেল বন্ধন ঘটিয়ে এসকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেশীর ভাগ  মানুষ। --------

যাই হউক আমরা এ পৃথিবী নামক গ্রহেই সৃষ্টি। এ বিশাল বিশ্ব ধরায় আমরা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, আর এ বিশ্বে আমাদের ক্ষনিকের অবস্থানের মূল উদ্দশ্য আমরা বুদ্ধি বৃত্তিক মানুষ  আজীবন খুঁজে বেড়াচ্ছি। এরূপ প্রশ্ন হাজার বছর ধরে কৌতুহলী মানুষ খুঁজে বেড়াবে। কিন্তু সর্বজন গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যা কোনদিন সম্ভব হবে কিনা আগামীই বলতে পারে। তবে আজকের সজীব প্রাণপূর্ণ চঞ্চল বুদ্ধি বৃত্তিক মানুষ কি করে মাটির নীচে অনাদীকাল পর্যন্ত নির্জীব নিস্পাণ জড় হয়ে পড়ে থাকবে?  একথা ভেবে সব সময় একটা দুঃখবোধ  নিজের মধ্যে তাড়া করে ফিরে।

-----------------------------------------------

No comments:

Post a Comment

একটি ছড়া

 পাগলা কাকা ( কবিতার পটভূমিঃ- এই ছড়া কবিতাটি মানসিক প্রতিবন্ধী  আমার এক দূর সম্পর্কীয় মরহুম কাকাকে নিয়ে, যিনি বেশ সম্পদশালী মানুষের সন্তান ছ...